৩০ মিটার গভীর খাদে বাস, কেপ ভার্দেতে নিহত ২৫—বেশিরভাগই শিক্ষার্থী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর ও স্কুলশিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা ইনফোরপ্রেস। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
৩০ মিটার গভীর খাদে বাস
ফোগো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি ক্যাম্পানাস দে সিমা সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর খাড়া খাদে পড়ে যায়। দুর্গম ও পাথুরে এলাকায় বাসটি পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে।
বাসটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেক কিশোর-কিশোরী ছিল। কয়েকজন আহত যাত্রীকে ফোগো দ্বীপের সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্কুলের আয়োজন ছিল না
শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো স্থানীয় স্কুলের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সফর ছিল না। বাসচালক ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিবছর এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করতেন। এবারও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি ফোগোর আগ্নেয়গিরি পিকো দো ফোগো-র আগ্নেয়গিরির গহ্বরের ভেতরের চা দাস কালদেরাস এলাকায় ভ্রমণে গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ওই চালকও নিহত হয়েছেন।
তদন্ত শুরু
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধারকারীরা রাতভর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
দুই দিনের জাতীয় শোক
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর কেপ ভার্দে সরকার দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো কারভালহো শোক ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া পেরেইরা নেভেস ঘটনাটিকে ‘বড় বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রোববার ফোগো দ্বীপে নিহতদের কয়েকজনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি গির্জায় ১৮টি কফিন রাখা হয়েছিল বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।