এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে বদলে গেল হাজারো ফল, জিপিএ-৫ পেলেন নতুন ৩,০৭৯ জন
শিক্ষা ডেস্ক ||
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। একই সঙ্গে মূল ফলাফলে ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। ফল পরিবর্তনের এই সংখ্যা এবারের পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়াকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।
১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফল প্রকাশ
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরেও পর্যায়ক্রমে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল থেকেও সংশোধিত ফলাফল দেখা যাচ্ছে।
পুনঃনিরীক্ষণের পর ৫৬ হাজার ২৫৯ জন শিক্ষার্থীর নম্বরে পরিবর্তন এসেছে এবং ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড বা জিপিএ পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
রেকর্ডসংখ্যক উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ
এবার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারায় মোট উত্তরপত্রের সংখ্যা ছিল আরও বেশি।
সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট আবেদন ছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
এবার শুধু নম্বর যোগ নয়, হয়েছে পুনর্মূল্যায়নও
এবারের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করা উত্তরপত্র শুধু প্রচলিত অর্থে পুনঃনিরীক্ষণই নয়, পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।
আগের ব্যবস্থায় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না বা কোনো উত্তর মূল্যায়ন বাদ পড়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো। এবার উত্তরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি ফেল থেকে পাস
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছে—১ হাজার ১৮০ জন। এরপর দিনাজপুরে ৮৬৭ জন এবং যশোরে ৩৮০ জন শিক্ষার্থী নতুন করে উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা বোর্ডে ৩৩৭, কুমিল্লায় ৩৩৬, চট্টগ্রামে ১৯০, সিলেটে ১৮৬, রাজশাহীতে ১১১ এবং বরিশালে ৭৯ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৫৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী নতুন করে উত্তীর্ণ হয়েছে।
মূল ফলের পর বড় পরিবর্তন
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার মূল ফলাফলের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। মূল ফলে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে।
পুনঃনিরীক্ষণের ফলে হাজারো শিক্ষার্থীর ফল বদলে যাওয়ায় সংশোধিত ফলাফল এখন ভর্তি ও পরবর্তী শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ফলাফল জানার উপায়
পুনঃনিরীক্ষণের ফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং আবেদনকারীর মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।