মিরপুর-১০ অভিমুখে পোশাকশ্রমিকদের মিছিল আটকে দিল পুলিশ, আবারও উত্তেজনা
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারও রাজপথে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। সোমবার সকালে মিরপুর-১৪ এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে পুলিশি তৎপরতায় শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান। তবে একই দিন মিরপুরের অন্য একটি এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে জড়ো হন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ তাঁদের পথ আটকে দেয় এবং সড়কে অবস্থান নিতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালেই মিরপুরের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। তবে সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-২ এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সোয়া ১১টা পর্যন্ত সেখানে সংঘর্ষ চলছিল বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মিরপুরের একটি অংশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে যায়।
শ্রমিকদের এই আন্দোলনের মূল দাবি হলো মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। শ্রমিকদের বক্তব্য, দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।
এর আগে ১ নভেম্বর মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল থেকে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনগুলোতে আবারও ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ছয় সদস্যের একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। শ্রমিকদের একাংশ দ্রুত মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চাইলেও মালিকপক্ষ শিল্পের উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা ও রপ্তানি আদেশের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। তাই শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।