Columbus, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে স্বপ্নপূরণের একধাপ এগিয়ে "মৌমি" লাউয়াছড়া রেলপথ যাত্রীদের আতঙ্কের অপর নাম! মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের উড়ানো গ্যাস বেলুন ও ব্যানার ভারতের আসামে মুঘল আমলের স্থাপত্যে গম্বুজবিশিষ্ট কেরামত আলী মসজিদ সংগ্রাম পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে অমিত খান, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু দুর্গাপুর উপজেলার ইতিহাসে নাঈমুরের অনন্য কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন, হ্যাটট্রিক জিপিএ ফাইভে মেধার স্বাক্ষর নাসিরনগরে দেশীয় মাছের শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলেরা সরকারি কলেজের ১৭ জন শিক্ষকের ১০ পরীক্ষার্থী; কেউই পাস করেনি ১ জনও নওগাঁয় নিখোঁজের একদিন পর ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার মানবিক সেবায় তরুণদের উদ্যোগ, সরকারি নিবন্ধন পেল রাণীনগর সোশ্যাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন নওগাঁয় গাঁজা ও চোর চক্রের সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬; উদ্ধার ৫১৭ মোবাইল সাংবাদিক বিশ্বজিৎ সরকার মনি আর নেই পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, ৫২৯ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, দায়িত্বে ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
হোম › শিক্ষা › দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে স্বপ্নপূরণের একধাপ এগিয়ে "মৌমি"

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে স্বপ্নপূরণের একধাপ এগিয়ে "মৌমি"

বাংলাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:২৬ এএম, ০২ নভেম্বর, ২০২৬ 2
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে স্বপ্নপূরণের একধাপ এগিয়ে "মৌমি"
তিমির বনিক
তিমির বনিকমৌলভীবাজার প্রতিনিধি॥

পৃথিবীর আলো ও চোঁখে না দেখা দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের মেধা মনন, সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাহমিনা আক্তার মৌমি। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় মনোবল থাকলে কোনো বাঁধাই স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না।


সিলেট শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক পাসের হার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও মৌমির এই অসাধারণ সাফল্য শিক্ষাঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


তাহমিনা আক্তার মৌমি সিলেট সরকারি মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর গ্রামে। তিনি আব্দুল আহাদ ও আমিনা আক্তার পুষ্প দম্পতির মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন মৌমি।


বর্তমানে তিনি সিলেটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে কাজ করা গ্রিন ডিসএবিল্ড ফাউন্ডেশনের (জিডিএফ) আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে থেকে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।


জিডিএফের নির্বাহী পরিচালক বায়েজিদ আহমদ খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “মৌমি প্রথম শ্রেণি থেকেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে আছেন। তার এই ব্যতিক্রমী ও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে আমরা অত্যান্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”


নিজের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মৌমি বলেন, “চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পাই না সত্যি। কিন্তু স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে। এই অর্জন আমার একার নয়। আমার বাবা-মা, শিক্ষক এবং জিডিএফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে পড়াশোনার পথে বাঁধা হতে পারে না, তা আমি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের সেবা করতে চাই।”


মেয়ের এমন অসাধারণ অর্জনে বাবা আব্দুল আহাদ বলেন, “আমার মেয়ে জন্ম থেকেই চোঁখে দেখে না। কিন্তু ওর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে আমরা কখনো ওকে পিছু হটতে দিইনি। আজ ওর এই সাফল্যে মা-বাবা হিসেবে আমরা কতটা গর্বিত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সবাই আমার মৌমির জন্য দোয়া করবেন, যেন সে তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারে।”


দৃষ্টিশক্তি না থাকায় মৌমিকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে শ্রুতিলেখকের সহায়তায়। এবারের পরীক্ষায় তাঁর শ্রুতিলেখক হিসেবে সহযোগিতা করেন পল্লব রায়। তিনি হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থী। মৌমির মুখে বলা উত্তরগুলো পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে তাঁর এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পল্লব, ওর অসামান্য অবদান চিরদিন মনে থাকবে।