পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল
পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার শর্তে তাঁর জামিনের আবেদনও নাকচ করেছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতে আত্মসমর্পণের পর শওকত আজিজ রাসেল তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ না করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাঁর পক্ষে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল।
মামলাটির রায়ে শওকত আজিজ রাসেল এবং তাঁর ভাই আশফাক আজিজ রুবেলকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত দুই ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই মামলায় রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকেও সমপরিমাণ সাজা ও জরিমানা করা হয়। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আট আসামিকে ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ছিল। মামলার রায়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে সাজা ঘোষণা করেন। রায়ের পর শওকত আজিজ রাসেলের আদালতে আত্মসমর্পণ এবং জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার ঘটনা মামলাটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার আইনগত সুযোগ আসামিদের রয়েছে। শওকত আজিজ রাসেল বা তাঁর আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সাজা ও রায়ের বিষয়ে নতুন করে শুনানি হতে পারে। আপিলের ফলাফল না আসা পর্যন্ত নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় ও কারাগারে পাঠানোর আদেশই কার্যকর থাকবে।
উল্লেখ্য, শওকত আজিজ রাসেল পারটেক্স গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যবসায়ী। পূর্বাচল প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং আত্মসমর্পণের পর জামিন না পাওয়ার বিষয়টি দেশের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।