শিক্ষাব্যবস্থায় AI ব্যবহারে গুগলের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
শিক্ষা ডেস্ক ||
দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষামূলক কনটেন্ট উন্নয়নে গুগলের সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ে গুগলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। গুগলের গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসির আঞ্চলিক প্রধান কাইলি গার্ডনার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
শিক্ষায় AI ব্যবহারে শিক্ষকদের দক্ষ করার ওপর গুরুত্ব
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদেরও নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মতো কর্মসূচিতে গুগল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও Gemini Academy নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি, Gemini Academy এবং Chromebook ব্যবহারের বিষয় উঠে আসে।
Gemini Academy মূলত শিক্ষকদের AI ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের AI-এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার, পাঠ পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন শিক্ষাদান-সংক্রান্ত কাজে AI ব্যবহারের দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রোববারের বৈঠকে এসব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সূচি বা চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের মতো কর্মসূচি রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসেও লন্ডনে Education World Forum-এর ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী গুগল ফর এডুকেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময় বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিতে গুগলের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা
৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে গুগল প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়। তারা গুগল ফর এডুকেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ, AI-ভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং Chromebook-এর মতো প্রযুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ব্যবহার সম্প্রসারণে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে গুগল ফর এডুকেশনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিশেষ প্রকল্পের প্রধান টিম পাওলিনি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।