‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান, জাতীয় স্বার্থই এখন অগ্রাধিকার’: মাহদী আমিন
নিউজ ডেস্ক | নিউ ইয়র্ক ভয়েস বাংলা
বিগত সরকারের ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি’র অধ্যায় পেরিয়ে বর্তমান সরকার জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কূটনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সমতা, ন্যায্যতা, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈশ্বিক মর্যাদা বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সীমান্ত ও আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কূটনীতিকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাহদী আমিন আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে এর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও মাহদী আমিন বলেছিলেন, কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় সরকার। বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা সবার আগে সুরক্ষিত রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালিত—যেখানে দেশের স্বার্থই থাকবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।