Columbus, ০১ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
২০২৮ সালে আসছে নতুন মার্কিন পাসপোর্ট: ‘Flight of the Eagle’ নকশায় বড় পরিবর্তন আড়াই লাখের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল: অপরাধ, ভিসার শর্ত ভঙ্গ ও অভিবাসনব্যবস্থা অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান সেনবাগে আবুল খায়ের মোল্লার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার নাসিরনগরে ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ এর শুভ উদ্বোধন আসন না পেলেও কুড়িগ্রামকে অবহেলা করা হবে না: ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি কুড়িগ্রামে পিপিআর রোগের বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার জের: স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মাগুরায় ২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সাময়িক বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মুক্ত হলেন কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন। হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার জেলায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে হবিগঞ্জ মোটরমালিক গ্রুপের মৌলভীবাজারে আলোচিত শিক্ষার্থী নাঈম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা, ‘দুই দেশের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব’: ভারতীয় হাইকমিশনার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির ভূমিকা তদন্তাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হোম › আন্তর্জাতিক › আড়াই লাখের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল: অপরাধ, ভিসার শর্ত ভঙ্গ ও অভিবাসনব্যবস্থা অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান

আড়াই লাখের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল: অপরাধ, ভিসার শর্ত ভঙ্গ ও অভিবাসনব্যবস্থা অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:২৩ এএম, ০১ অক্টোবর, ২০২৬ 22
আড়াই লাখের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল: অপরাধ, ভিসার শর্ত ভঙ্গ ও অভিবাসনব্যবস্থা অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান

মো: নাজমুল হাসান বাবু॥


যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসা যাচাই ও বাতিলের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হিসাবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধ, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, প্রতারণা, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগকে এসব বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন প্রশাসন।


তবে তথ্যটি যাচাই করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাওয়া গেছে। ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের সংখ্যাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো আলাদা প্রেস রিলিজে এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। বরং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ সংখ্যা Fox News Digital-এর সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক ভিসা-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যগুলোতে অবশ্য ব্যাপকভাবে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দপ্তরের এক ঘোষণায় বলা হয়, ১ অক্টোবর থেকে আরও কয়েকটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শ্রেণিতে অনলাইন উপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই বাড়ানো হবে। এর আওতায় বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের I ভিসা এবং USMCA-সংশ্লিষ্ট TN ও TD ভিসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা পাওয়াকে কোনো ব্যক্তির স্বয়ংক্রিয় অধিকার হিসেবে নয়, বরং মার্কিন সরকারের বিবেচনাধীন একটি সুবিধা হিসেবে দেখা হয়।


২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ভিসা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম-পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেছেন বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ রয়েছে।


এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। আগস্টে দপ্তর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য প্রকাশ করেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। সেসব বাতিলের বড় অংশ ছিল বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পর করা পদক্ষেপ। এর মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগও ছিল।


এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিলের আইনি ক্ষমতা নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়। মার্কিন Immigration and Nationality Act-এর ৮ U.S.C. §1201(i) অনুযায়ী, ভিসা ইস্যু হওয়ার পরও কনস্যুলার কর্মকর্তা বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দিষ্ট আইনি ক্ষমতার অধীনে যেকোনো সময় ভিসা বাতিল করতে পারেন। একই আইনে সাধারণভাবে এ ধরনের বাতিলের সরাসরি বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে।


সাম্প্রতিক পদক্ষেপের আরেকটি বড় দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার উদ্দেশ্য পরিবর্তনের বিষয়টি। আগস্টে Associated Press-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে CNN ও আল জাজিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য দেওয়া B1 ও B2 ভিসা ব্যবহার করে পরে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন সম্ভাব্যভাবে ২ লাখ পর্যন্ত মানুষ এ প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন বলে জানানো হয়েছিল।


তবে এই সম্ভাব্য ২ লাখ এবং ইতোমধ্যে বাতিল হওয়া ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা—দুটি সংখ্যা এক নয়। প্রথমটি ছিল ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিসর, আর দ্বিতীয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে বাতিল হওয়া ভিসার মোট সংখ্যা। CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, B1/B2 ভিসা বাতিলের সম্ভাব্য কার্যক্রম একবারে সবার ওপর প্রয়োগ না করে ধাপে ধাপে করা হতে পারে এবং সংখ্যাটিও পরিবর্তনশীল ছিল।


বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য এই পরিবর্তনের তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যবসায়ী, কর্মী, সাংবাদিক ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের শর্ত মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাতিল হওয়া ভিসার দেশভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা মার্কিন সরকার প্রকাশ করেনি। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ঠিক কতজন এই সংখ্যার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে বর্তমানে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য থেকে আরও দেখা যায়, ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা-পরীক্ষা শুধু ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রেই নয়, নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য যাচাইয়ের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ভিসা নীতির কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে আরও বিস্তৃত স্ক্রিনিং, ধারাবাহিক যাচাই এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার ওপর জোর।


এদিকে আদালতেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন অভিবাসননীতি নিয়ে একাধিক মামলা চলছে। তবে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের এই নির্দিষ্ট সংখ্যাকে বাতিল বা স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি। বরং সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক ডকেটগুলোতে অভিবাসন ও তৃতীয় দেশে বহিষ্কারসংক্রান্ত পৃথক মামলার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, Department of Homeland Security v. D.V.D. মামলায় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আদালত নিম্ন আদালতের একটি আদেশ স্থগিত করে মামলাটি গ্রহণ করেছে; এটি সরাসরি ২ লাখ ৫০ হাজার ভিসা বাতিলের সংখ্যার মামলা নয়।


সব মিলিয়ে যাচাই করা তথ্য বলছে, ‘আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল’—এই খবরটি মূলত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য, তবে এটিকে এমনভাবে বলা ঠিক হবে না যে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিজস্ব ওয়েবসাইটে ২ লাখ ৫০ হাজারের একটি বিস্তারিত প্রেস রিলিজ বা দেশভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেছে। সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমানে পাওয়া ঘোষণাগুলো মূলত ভিসা স্ক্রিনিং, অনলাইন উপস্থিতি যাচাই এবং অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তনকে নথিভুক্ত করছে। ফলে মোট সংখ্যাটি সরকারি মুখপাত্রের ঘোষিত হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করাই সবচেয়ে নির্ভুল।


তথ্যসূত্র: U.S. Department of State, U.S. Visas News, Fox News Digital-এর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের সাক্ষাৎকার, Associated Press, CNN, Al Jazeera, The Guardian এবং U.S. Supreme Court-এর প্রকাশিত ডকেট।