২০২৮ সালে আসছে নতুন মার্কিন পাসপোর্ট: ‘Flight of the Eagle’ নকশায় বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টে আসছে নতুন নকশা। ‘Flight of the Eagle’ নামে নতুন এই পাসপোর্টের নকশা উন্মোচন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে America.gov উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে নতুন পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন নকশাটি ২০২৮ সালে পর্যায়ক্রমে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন পাসপোর্টে বর্তমানের পরিচিত নীল প্রচ্ছদ রাখা হচ্ছে। তবে প্রচ্ছদের বিন্যাসে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনে ‘United States of America’ লেখাটি আরও ওপরে এবং স্পষ্টভাবে থাকবে। এর নিচে থাকবে তুলনামূলক বড় ও বেশি দৃশ্যমান Great Seal of the United States। নতুন নকশায় সোনালি রঙের ব্যবহারও আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন নকশার মূল প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে American Eagle-কে। শুধু প্রচ্ছদেই নয়, পাসপোর্টের অভ্যন্তরীণ পাতাগুলোতেও ঈগলের বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন রাখা হয়েছে। পৃষ্ঠাগুলো দ্রুত উল্টালে ধারাবাহিক ছবির মাধ্যমে ঈগলকে উড়ন্ত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে—এমন একটি flipbook বা zoetrope ধরনের ভিজ্যুয়াল প্রভাবও নকশায় রাখা হয়েছে।
মার্কো রুবিও নতুন নকশা উপস্থাপনের সময় পাসপোর্টকে শুধু আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি নথি হিসেবে না দেখে নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক যখন বিশ্বের অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করেন, তখন তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচয়ও এই নথির মাধ্যমে বহন হয়।
পাসপোর্টের ভেতরের পাতাগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও বিভিন্ন জাতীয় অর্জনকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নকশার বিবরণ অনুযায়ী, আমেরিকান বিপ্লব, পশ্চিমমুখী অগ্রযাত্রা, রেলপথ নির্মাণ, বিমান চলাচলের ইতিহাস এবং মহাকাশ অভিযানের মতো বিষয়গুলো অভ্যন্তরীণ artwork-এ স্থান পেয়েছে।
তবে নতুন পাসপোর্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনগুলোর একটি হচ্ছে এর পৃষ্ঠাসংখ্যা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর Federal Register-এ প্রকাশিত নোটিশে জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত ২৬ পৃষ্ঠার সাধারণ পাসপোর্ট এবং ৫০ পৃষ্ঠার বড় পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন redesign-এর সঙ্গে ৩৮ পৃষ্ঠার একটি একক পাসপোর্ট বুক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরি পাসপোর্ট ১২ পৃষ্ঠারই থাকবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, একক আকারের পাসপোর্ট চালুর পেছনে উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং পাসপোর্ট তৈরিতে অপচয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন পরিবর্তন শুধু প্রচ্ছদের নকশায় সীমাবদ্ধ থাকছে না; পাসপোর্ট বইয়ের কাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে।
নতুন পাসপোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায় বর্তমানে polycarbonate data page, laser engraving, security fibers এবং অন্যান্য জালিয়াতি প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা হয়। নতুন redesign-এর ক্ষেত্রে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে থাকবে, তার সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তাই প্রকাশিত সরকারি তথ্যের বাইরে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যকে নতুন পাসপোর্টের নিশ্চিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
পাসপোর্টের নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি আবেদনপ্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের ২৯ সেপ্টেম্বরের Fact Sheet অনুযায়ী, America.gov-কে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সেবার একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্রবেশদ্বার হিসেবে চালু করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট নবায়নসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কো রুবিও একই অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়াও অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারী Login.gov-এর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই, ছবি জমা, ফি প্রদান এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এই ডিজিটাল পরিবর্তন এবং ২০২৮ সালের নতুন পাসপোর্ট নকশা দুটি আলাদা সময়সূচিতে এগোবে—অনলাইন আবেদনব্যবস্থা আগে আসবে, আর নতুন পাসপোর্ট বইয়ের redesign ২০২৮ সালে পর্যায়ক্রমে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ২০২৮ সালের ‘Flight of the Eagle’ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন standard passport redesign। এটি ২০২৬ সালের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে তৈরি বিশেষ commemorative passport-এর সঙ্গে এক নয়। ফলে বর্তমানে বৈধ কোনো পুরোনো মার্কিন পাসপোর্ট ২০২৮ সালে নতুন নকশা আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের পরিবর্তনটি মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায় একই সঙ্গে নকশা, পৃষ্ঠাসংখ্যা এবং আবেদনপ্রক্রিয়ার পরিবর্তন আনছে। নতুন নীল প্রচ্ছদে আরও বড় ও দৃশ্যমান আমেরিকান ঈগল, ওপরে ‘United States of America’ লেখা, ভেতরের পাতায় ইতিহাসভিত্তিক artwork এবং ৩৮ পৃষ্ঠার একক বই—এসবই নতুন নকশার প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে সামনে এসেছে। তবে সরকারি নথির ভাষা অনুযায়ী ২০২৮ সালের rollout এখনো একটি পরিকল্পিত/প্রত্যাশিত বাস্তবায়ন, তাই এটিকে ইতোমধ্যে সবার জন্য কার্যকর হয়ে গেছে—এভাবে বলা সঠিক হবে না।
তথ্যসূত্র: U.S. Department of State, Federal Register, The White House, Spectrum News,