কয়েকটি রাস্তা-ব্রিজ বানিয়ে দেশ বানানোর দাবি নয়, প্রয়োজন সামগ্রিক উন্নয়ন: তারেক রহমান
ঢাকা ||
দেশের উন্নয়ন বলতে শুধু কয়েকটি রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণকে বোঝানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, কয়েকটি রাস্তা ও ব্রিজ বানিয়ে ‘আমরা অমুক দেশ বানিয়ে ফেলেছি’—এ ধরনের দাবি করতে তিনি চান না। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি পরিমাপ করা যায় না। রাস্তা, সেতু ও অবকাঠামো অবশ্যই প্রয়োজনীয়; তবে এগুলোর পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তিনি এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে উন্নয়নের সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও জীবিকার বাস্তব পরিবর্তন ঘটবে—এমন উন্নয়নই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য।
তার বক্তব্যে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আত্মতুষ্টির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তব ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি রাস্তা বা একটি সেতু নির্মাণ কোনো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে পারে, কিন্তু সেই উন্নয়নকে তখনই পূর্ণাঙ্গ বলা যাবে, যখন এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বক্তব্যটির মধ্য দিয়ে উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামোগত নির্মাণকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি বৃহত্তর জাতীয় উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একটি আধুনিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন অর্থনীতি, মানবসম্পদ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ সব খাতের সমন্বিত অগ্রগতি।
ছবিতে প্রদর্শিত বক্তব্যে তারেক রহমান এমপি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে বার্তাটি দেওয়া হয়েছে, তার সারকথা হলো—কয়েকটি রাস্তা বা ব্রিজ নির্মাণ করেই দেশের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি না করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে উন্নয়নের সুফল সরাসরি জনগণের জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত হবে।
মূল বক্তব্য:
“কয়েকটি রাস্তা আর ব্রিজ বানিয়ে বলতে চাই না, আমরা অমুক দেশ বানিয়ে ফেলেছি!”এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের দৃশ্যমান অবকাঠামোর পাশাপাশি মানুষের জীবনমান ও সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় অগ্রগতিকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয়ই তুলে ধরা হয়েছে।