অবতরণের সময় ভয়াবহ অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা, নিহত ৫—তদন্তে NTSB
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি ||
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বিমানটি রানওয়ের বাইরে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করার পর আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুর প্রায় ২টার দিকে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) তথ্য অনুযায়ী, ২১ এয়ার পরিচালিত ফ্লাইট ৭৫৯৮ মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রানওয়ে অতিক্রম করে বাইরে চলে যায়। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশে এসেছিল।
রানওয়ে ছাড়িয়ে যানবাহনে আঘাত
দুর্ঘটনার শিকার বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৬৭-৩০০। অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ে থেকে প্রায় ১,৩০০ ফুট দূরে চলে যায় এবং বিমানবন্দরের বাইরের একটি সড়ক পার হওয়ার সময় যানবাহনে আঘাত করে। পরে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
বিমানটির দুই পাইলট দুর্ঘটনার পর জীবিত ছিলেন এবং তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতদের সবাই বিমানটির যাত্রী ছিলেন কি না, নাকি মাটিতে থাকা যানবাহনের আরোহী ছিলেন—সেটি এখনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
তদন্তে নেমেছে NTSB ও FAA
দুর্ঘটনার কারণ জানতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) তদন্ত শুরু করেছে। NTSB-এর চেয়ারম্যান জেনিফার হোমেন্ডির নেতৃত্বে তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে আবহাওয়া, অবতরণের পরিস্থিতি এবং বিমানটির রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ঘোষণা করা হয়নি।
সোমবার তদন্তকারীরা বিমানটির ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, অর্থাৎ দুটি ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার করেছেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার আগে বিমানের গতি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, পাইলটদের কথোপকথনসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা।
বিমানবন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব
দুর্ঘটনার পর মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয় এবং কিছু ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। পরে বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও দুর্ঘটনাস্থলের কারণে কয়েকটি রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
অ্যামাজন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি তারা গভীরভাবে সমবেদনা জানাচ্ছে এবং তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তদন্ত অব্যাহত
কেন বিমানটি নির্ধারিত রানওয়ের মধ্যে থামতে পারেনি এবং দুর্ঘটনার পেছনে কোনো যান্ত্রিক, মানবিক বা আবহাওয়াজনিত কারণ ছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রে রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে না।