আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ইন্দোনেশিয়ায় বিপর্যস্ত বিমান চলাচল, ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৪১ হাজার যাত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাইয়ে দেশটির বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ছাইয়ের কারণে একাধিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন আনায় ৩ লাখ ৪১ হাজারের মতো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯৬১টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২,৯৬১ ফ্লাইটে প্রভাব
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইটের পরিচালনায় পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৩৯টি অভ্যন্তরীণ এবং ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব ও সময়সূচি পরিবর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বিমানবন্দর বন্ধ, বাড়ছে ভোগান্তি
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভূতাত্ত্বিক সংস্থা BMKG জানিয়েছে, ৭ সেপ্টেম্বর সকালে আগ্নেয় ছাইয়ের বিস্তারের প্রভাবে জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এর মধ্যে ছিল। পরে পরিস্থিতি ও ছাইয়ের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
BMKG জানিয়েছে, আগ্নেয় ছাইয়ের গতিপথ ও বিস্তার ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর সকালেও আনাক ক্রাকাতাউয়ের ছাই বিভিন্ন উচ্চতায় শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার বান্তেন, পশ্চিম জাভা, ল্যাম্পুং ও বেনকুলু অঞ্চলের দিকে ছিল।
নিরাপত্তার কারণে ফ্লাইটে পরিবর্তন
বিমান চলাচলের জন্য আগ্নেয় ছাই বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। ছাইয়ের কণা বিমানের ইঞ্জিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর বন্ধ ও ফ্লাইট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ এবং যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এয়ারএশিয়া জানিয়েছে, সোকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে জাকার্তাগামী ও জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া তাদের ফ্লাইটগুলো বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছে ছাই
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাত থেকে তৈরি ছাইয়ের মেঘ কিছু এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে শুধু স্থানীয় নয়, আঞ্চলিক বিমান চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। BMKG জানিয়েছে, আগ্নেয় ছাইয়ের গতিবিধি ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
এখনো সতর্ক অবস্থানে কর্তৃপক্ষ
আনাক ক্রাকাতাউয়ের বর্তমান কার্যক্রমের পাশাপাশি ছাইয়ের বিস্তার এবং বাতাসের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। BMKG জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আনাক ক্রাকাতাউ ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর গড়ে ওঠা আগ্নেয় দ্বীপগুলোর একটি। ২০১৮ সালে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর সুনামিতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ফলে বর্তমান অগ্ন্যুৎপাতের পরিস্থিতিতেও ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।