শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্তে বিধি সংশোধনের উদ্যোগ
নিউজ ডেস্ক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা॥
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে কার্যপ্রণালী বিধি (Rules of Procedure) সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়।
আমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, কোন কর্তৃপক্ষ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি গ্রহণ করবে, কীভাবে সম্পত্তি বিক্রি বা অর্থ আদায় হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কীভাবে ক্ষতিপূরণ পাবে—এসব বিষয়ে কার্যপ্রণালীতে বিস্তারিত নির্দেশনা নেই। ফলে আদালতের দেওয়া বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে একটি আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এই জটিলতা কাটাতে ট্রাইব্যুনালের Rules of Procedure সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে ইতোমধ্যে যেসব মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশোধিত প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান কৌঁসুলি।
এ ক্ষেত্রে প্রচলিত Public Demands Recovery Act অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুসরণ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এসব আইনে জরিমানা বা অর্থ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কাঠামো রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যুক্ত থাকলে সরকারের জন্য তা বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে প্রসিকিউশন মনে করছে।
প্রধান কৌঁসুলি জানান, তিনি বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নজরে এনেছেন এবং তাঁরা বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুই ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে একটি আইনবিষয়ক সেমিনার আয়োজন করে বিদ্যমান বিধির সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য সংশোধন নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন সেই রায় বাস্তবায়নের আইনি কাঠামো স্পষ্ট করাই প্রসিকিউশনের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অর্থাৎ, সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় নতুন করে দেওয়া হচ্ছে না; বরং ইতোমধ্যে দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য কোন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সেটি নির্ধারণের কাজ এগোচ্ছে।