ইসরায়েলি বসতিতে পণ্য বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি ||
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, পার্লামেন্টে এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্য এবং কিছু সেবার বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ও রয়েছে।
পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে E1 settlement project নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ আরও দুর্বল হয়ে একটি সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে ব্রিটিশ সরকার মনে করে।
মিলিব্যান্ড গত ১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে বলেছিলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে যুক্তরাজ্য একটি ‘comprehensive’ বা বিস্তৃত নীতিগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এর আগে ব্রিটিশ সরকার বসতিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করলেও সরাসরি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।
কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ হতে পারে। পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে অংশ নেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত পরিধি ও আইনি কাঠামো মঙ্গলবারের ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।
জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, শুধু বসতিতে উৎপাদিত কিছু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নাও হতে পারে; কার্যকর প্রভাব ফেলতে হলে পদক্ষেপের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক চাপ
যুক্তরাজ্যের পরিকল্পিত পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর সতর্ক করে বলেছেন, ব্রিটেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েলও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বলছে, তাদের নীতির লক্ষ্য ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে অর্থনৈতিকভাবে নিরুৎসাহিত করা এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করা।
এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেনি। বর্তমানে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনগুলো বলছে, ৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা। তাই নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পণ্য, সেবা, প্রতিষ্ঠান ও কার্যকর হওয়ার তারিখ সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।
এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্ক, পশ্চিম তীরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের নীতি নির্ধারণেও এর প্রভাব পড়তে পারে।