বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি, গঠনতন্ত্র মেনেই সিদ্ধান্ত: রিজভী
চাকা প্রতিনিধি॥
বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটিতে তৈরি হওয়া শূন্যপদগুলো পূরণে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করছে দলটি। সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যাঁরা শূন্য পদের ঠিক নিচের স্তরে রয়েছেন, তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া যায় কি না—দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী তা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
রিজভী বলেন, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে নানা কারণে বেশ কিছু পদ শূন্য হয়েছে। কেউ মারা গেছেন, কেউ দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, আবার কেউ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেই। এসব কারণে সৃষ্ট শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, কোনো কমিটিতে শূন্যপদ তৈরি হলে তার ঠিক নিচের পদে থাকা নেতাকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা প্রথমে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। গঠনতন্ত্রে অনুমোদন থাকলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শূন্যপদ পূরণে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা
বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ তৈরি হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের শীর্ষ পর্যায়েও একাধিক পদে পরিবর্তন এসেছে। রুহুল কবির রিজভী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাঁর আগের পদটিও শূন্য হয়েছে। একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টন ও পদোন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে সাংগঠনিক জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা এবং দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রিজভী। এতে সংশ্লিষ্ট কমিটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো বজায় রেখেই পদ পূরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কাউন্সিল নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি
সাংগঠনিক শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা হলেও বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি বলে জানান রিজভী। তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনার মূল বিষয় ছিল জেলা ও উপজেলা পর্যায়সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটিতে তৈরি হওয়া শূন্যপদ পূরণ।
এর আগে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন শূন্যপদে নতুন নেতৃত্ব আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও সক্রিয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদ পূরণে গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর কোন পর্যায়ে কারা নতুন দায়িত্ব পান এবং এর মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে।