তাইওয়ানের কাছে নতুন অস্ত্র বিক্রি করলে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক বাতিলের হুমকি চীনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে বেইজিং। জাপানের সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
কিয়োদোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে তাইওয়ানের কাছে নতুন কোনো অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন না দিতে চীনা পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে। নতুন কোনো অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হলে শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। তবে চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শি জিনপিংয়ের সফর নিশ্চিত করেনি। ফলে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্ত বৈঠকটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তাইওয়ান ইস্যুকে ‘রেড লাইন’ বলছে বেইজিং
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে চীন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখলেও দ্বীপটির অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে আসছে।
বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। চীনের দৃষ্টিতে তাইওয়ান ইস্যু চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়। চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকেও শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ ঘিরে উত্তেজনা
তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন অস্ত্র প্যাকেজটির মূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। এতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম থাকার কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো প্যাকেজটি অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মে মাসে চীনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে তিনি শির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। একই সময়ে তিনি প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘বাণিজ্যিক দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
তাইওয়ানের পক্ষ থেকে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখার দাবি করা হচ্ছে। তাইওয়ানের শীর্ষ মার্কিন প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ইউই এর আগে বলেছিলেন, চীনের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে এসব অস্ত্র তাদের প্রয়োজন।
বৈঠক বাতিলের হুমকি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ট্রাম্প ও শির সম্ভাব্য ২৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বাণিজ্য, শুল্ক, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা এবং তাইওয়ানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকের আলোচনায় আসতে পারে।
এর মধ্যেই নতুন অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনা সামনে আসায় চীন আবারও তাইওয়ান ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ‘লাল রেখা’ হিসেবে সামনে এনেছে।
তবে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। বর্তমান খবরটি মূলত কিয়োদো নিউজের উদ্ধৃত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এটিকে চীনের সম্ভাব্য সতর্কবার্তা বা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে সবচেয়ে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় এবং চীন সেই সিদ্ধান্তের জবাবে শি জিনপিংয়ের সফর বাতিল করে, তাহলে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে চলমান আলোচনার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: কিয়োদো নিউজ, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP),