অস্থিরতা না কমলে ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ নীতিতে কারখানা বন্ধের পথে পোশাকমালিকেরা, রোববার পর্যন্ত অপেক্ষার অনুরোধ সরকারের
মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ না থামলে শ্রম আইন অনুযায়ী ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে কারখানা বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তবে সরকার তাঁদের আগামী রোববার পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন পোশাকশিল্প মালিকদের একটি প্রতিনিধিদল। দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর কয়েকজন সাবেক সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মালিকেরা জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা প্রয়োগ করে কারখানা বন্ধ রাখতে চান তাঁরা। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান এবং বলেন, এরপরও অবস্থার উন্নতি না হলে মালিকেরা নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ কয়েকটি দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এর মধ্যে মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সাভার-আশুলিয়া-জামগড়া এলাকার ১৭০টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, আর গাজীপুর ও সাভার-আশুলিয়ার ৯১টি কারখানা টানা দুই দিন বন্ধ ছিল। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও আশুলিয়ায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন; সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাকে এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ ও সময়মতো পণ্য পাঠানো নিয়ে ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
ছবি: ফাহাদ ফয়সাল / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)