‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—৭ নভেম্বরের বাণীতে জাতীয় ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, এবারের ৭ নভেম্বরে সেটিই হওয়া উচিত প্রধান অঙ্গীকার।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি ও জনতা একসঙ্গে রাজপথে নেমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি পরে মহাজোটের নামে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পিলখানার ঘটনাকে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল; ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে তার অবসান ঘটে। তাঁর ভাষায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাকে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শনিবার ঢাকায় দলটির শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ফাইল ছবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান — প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)