রাশিয়া-কম্বোডিয়াসহ ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক, অনুমতি ছাড়া মিলবে না বহির্গমন ছাড়পত্র
মানবপাচার ও প্রতারণা ঠেকাতে রাশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওসসহ ১২টি দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এখন থেকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এসব দেশে যাওয়ার জন্য কোনো কর্মীকে বহির্গমন ছাড়পত্র (ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স) দেওয়া হবে না। বুধবার (৪ নভেম্বর) জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে এ নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশগুলো হলো সার্বিয়া, মলদোভা, বেলারুশ, কসোভো, রাশিয়া, জাপান, ইরাক, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইউক্রেন ও লিবিয়া। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) একই দিনে সার্কুলার দিয়ে সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বিষয়টি জানিয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে সাতটি পর্যন্ত নিয়োগের চাহিদাপত্রের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগত না; এই সুযোগে ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে কর্মী পাঠানোর অভিযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি চাহিদাপত্রেই আগাম অনুমোদন লাগবে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গাজী মো. শাহেদ আনোয়ার ডেইলি স্টারকে জানান, জাপানের নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও কাগজপত্রের শর্ত মানা নিশ্চিত করতে দেশটিকে তালিকায় রাখা হয়েছে। বাকি দেশগুলোর ক্ষেত্রে মানবপাচার, প্রতারণা ও কর্মীদের আটকে রাখার আশঙ্কার কথা বিবেচনা করা হয়েছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ১২ দেশে যেতে ৪৪ হাজার ১২২ জন বাংলাদেশি ছাড়পত্র নিয়েছেন। এর মধ্যে কম্বোডিয়ার জন্য ১৫ হাজার ২৩৫ জন, ইরাকের জন্য ৮ হাজার ৭৪৩ জন এবং রাশিয়ার জন্য ৫ হাজার ৭৭৬ জন ছাড়পত্র পান।
সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে অনলাইন প্রতারণার ‘স্ক্যাম কম্পাউন্ডে’ বাংলাদেশিদের আটকে রেখে জোর করে কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ায় বেসামরিক চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশিদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। গত ৮ অক্টোবর কম্বোডিয়া থেকে তিন বাংলাদেশির লাশ দেশে ফেরে, যাঁদের একজন ২৩ বছর বয়সী সোহাগ আহমেদ বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই গিয়েছিলেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা হওয়া উচিত, স্থায়ী সমাধান নয়।’ তাঁর মতে, ছাড়পত্র দেওয়ার আগে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব ও নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বিদেশগামীদের পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়োগপত্র, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও ছাড়পত্র নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো টাকা লেনদেন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
প্রতীকী ছবি: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা — Tarunsamanta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)