মৌলভীবাজারে মাদক কারবারি ধরিয়ে দিয়ে উল্টো মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ ও তুহিন, মিথ্যা মামলার অভিযোগ
মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরকাপন এলাকায় মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশে দিতে গিয়ে উল্টো মামলার আসামি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক কাউন্সিলর মো. মাসুদ ও তুহিন আহমেদসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মাদক নির্মূলে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ ও এলাকাবাসী মাদকসেবী ও কারবারিদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে আসছিলেন। এবার তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর মাদক কারবারের খবর পেয়ে সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ ও এলাকাবাসী রকি ও লিটন নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা জানা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে থানায় খবর দিলে এসআই আবু সাঈদসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় রকি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে লিটনের সঙ্গে তুহিন আহমেদকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরে লিটনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর মাধ্যমে মাসুদ, তুহিন আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকেও তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়েছে, যা মিথ্যা বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। মাসুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ৪ নভেম্বর বিকেলে মাসুদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা পালিয়ে যাওয়া রকি ও তাঁর সহযোগীদের খুঁজে বের করে পুলিশকে জানালে পুলিশ উল্টো প্রশ্ন তোলে, কেন তাঁরা নিজেরা মাদক কারবারিদের ধরছেন।
মামলার সাক্ষীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কাছ থেকে মামলার বিষয়বস্তু বা তাঁদের কীভাবে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, তা না জানিয়েই সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং পরে তা মামলার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যাঁরা মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে আসছেন, তাঁরাই যদি মামলার আসামি হন, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ কীভাবে মাদকবিরোধী কাজে এগিয়ে আসবেন।
পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মাদক নির্মূলে সহযোগিতাকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।