Columbus, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
লন্ডনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কারি শিল্পের জয়গান: সেরা রেস্তোরাঁ ও শেফদের বিসিএ সম্মাননা অনুষ্ঠিত প্রেম-বিয়ে-বিচ্ছেদের পর মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করলেন তারা, আর্তনাদে কাতর পরিবার নাজিরপুর পল্লী জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগ ডেপুটি স্পিকারের শিক্ষা অফিসে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন সহকারি শিক্ষক শ্রীমঙ্গলে ডিবির জালে ১০৮ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা আটক-৮ মহিষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ-৫ জন গ্রেপ্তার ব্রিজ সাড় দাঁড়িয়ে মাটির অভাবে দশ গ্রামের মানুষের চলাচলে বাঁধা সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, দৌলতপুর খাদ্যগুদামে দুদকের অভিযান ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের উন্নয়নে নানা অঙ্গীকার, চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গনি মিয়ার কাঁঠালবাড়ী-হলোখানায় জামাল সীড ও জুয়েল সীডের উদ্যোগে কৃষক-ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা কুড়িগ্রাম ভোগডাঙ্গায় গণসংযোগে ব্যস্ত মেম্বার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম নয়ন, চাইছেন দোয়া ও সমর্থন কুড়িগ্রামে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে রান্নার সরঞ্জাম ও বিশ্রামের বিছানা, অফিস নাকি বাসাবাড়ি? কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ নিয়ে অপপ্রচার, তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এলাকাবাসী
হোম › বাংলাদেশ › বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারাল পরিবার

বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারাল পরিবার

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 38
বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারাল পরিবার

মোহাম্মদ উল্যা

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি॥


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দেওয়া বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও গর্ভের শিশুর প্রকৃত অবস্থা সঠিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি। পরে মাইজদীতে নিয়ে পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে।


ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী নারী কয়েক মাস ধরে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাসলিমা নাসরিনের পরামর্শে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে একাধিক পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। তখন পরিবারকে জানানো হয়, গর্ভের সন্তান ভালো আছে এবং শিশুটির আনুমানিক ওজন ২ কেজি ৮০০ গ্রাম।


পরিবারের দাবি, এর পর গর্ভের শিশুর নড়াচড়া নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হলে তারা আবার হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অক্সিজেন দেওয়ার পর তাদের জানানো হয়, শিশুর নড়াচড়া হচ্ছে এবং ওজন প্রায় ৩ কেজি ২০০ গ্রাম। এ সময় মায়ের পেটের চামড়া মোটা হওয়ায় শিশুর নড়াচড়া কম অনুভূত হতে পারে বলেও পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।


তাদের অভিযোগ, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চললেও গর্ভের শিশুর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পরিবারকে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে মাইজদীতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তানটি ইতোমধ্যে মারা গেছে।


পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত নবজাতককে বের করার পর তার ওজন প্রায় ৪ কেজি পাওয়া যায়। এতে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করা বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টে শিশুর ওজন ও অবস্থার পার্থক্য নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১৬ সেপ্টেম্বর শিশুর প্রকৃত অবস্থা সঠিকভাবে শনাক্ত করা গেলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রসবের সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল রিপোর্টের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


পরিবারটি ঘটনাটিকে সম্ভাব্য চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল রিপোর্টের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা সব আল্ট্রাসনোগ্রাম, পরীক্ষার রিপোর্ট, চিকিৎসার কাগজপত্র, প্রেসক্রিপশন ও হাসপাতালের রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে তারা।


এর আগে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুল ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্বজনদের বিক্ষোভের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।


এদিকে বর্তমান ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য জানা গেলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল রিপোর্ট বা রোগীর অবস্থা মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি ছিল কি না—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।


একটি পরিবারের অনাগত সন্তান হারানোর এ ঘটনায় রিপোর্টের সত্যতা, চিকিৎসা-সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা এবং হাসপাতালের রেকর্ড খতিয়ে দেখে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন হলে একদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের সুযোগ পাবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।