Columbus, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
আ'লীগ পন্থী অধ্যক্ষকে মারধর করে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিলো স্থানীয়রা নওগাঁয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কোম্পানীগঞ্জে ১৭ জলাশয়ে ২৫০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারাল পরিবার জামায়াত নেতার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ন্যাম ভবনে চাঞ্চল্য নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল, আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ; ওসি প্রত্যাহার ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ নেত্রকোণায় বিপুল পরিমাণ চোরাই কম্বলসহ আটক ২ চোরাকারবারি দুর্গাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মালিকবিহীন ৪০ বোতল বিদেশী মদ জব্দ পুলিশের সামনেই বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব, অভিযুক্তের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও ক্ষোভ নিষিদ্ধ সংগঠনের সহিংস তৎপরতা—রাষ্ট্রের সক্ষমতা কোথায়? অপ্রতিমের মৃত্যুর আগে ফেসবুকে পোস্ট, আটকের আগে আনাসের সেই বার্তা ঘিরে প্রশ্ন ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে প্রাণ গেল নওগাঁ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর শ্রীমঙ্গলে ঘুমাতে গিয়ে খাটের নিচে ১৬ ফুটের বিশাল অজগর; অতঃপর উদ্ধার করাচির ডিজিটাল স্বাস্থ্য সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বক্তা তানহা তাবাসসুম
হোম বাংলাদেশ বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারাল পরিবার

বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারাল পরিবার

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 3
বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারাল পরিবার

মোহাম্মদ উল্যা

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি॥


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দেওয়া বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও গর্ভের শিশুর প্রকৃত অবস্থা সঠিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি। পরে মাইজদীতে নিয়ে পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে।


ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী নারী কয়েক মাস ধরে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাসলিমা নাসরিনের পরামর্শে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে একাধিক পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। তখন পরিবারকে জানানো হয়, গর্ভের সন্তান ভালো আছে এবং শিশুটির আনুমানিক ওজন ২ কেজি ৮০০ গ্রাম।


পরিবারের দাবি, এর পর গর্ভের শিশুর নড়াচড়া নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হলে তারা আবার হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অক্সিজেন দেওয়ার পর তাদের জানানো হয়, শিশুর নড়াচড়া হচ্ছে এবং ওজন প্রায় ৩ কেজি ২০০ গ্রাম। এ সময় মায়ের পেটের চামড়া মোটা হওয়ায় শিশুর নড়াচড়া কম অনুভূত হতে পারে বলেও পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।


তাদের অভিযোগ, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চললেও গর্ভের শিশুর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পরিবারকে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে মাইজদীতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তানটি ইতোমধ্যে মারা গেছে।


পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত নবজাতককে বের করার পর তার ওজন প্রায় ৪ কেজি পাওয়া যায়। এতে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করা বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টে শিশুর ওজন ও অবস্থার পার্থক্য নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১৬ সেপ্টেম্বর শিশুর প্রকৃত অবস্থা সঠিকভাবে শনাক্ত করা গেলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রসবের সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল রিপোর্টের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


পরিবারটি ঘটনাটিকে সম্ভাব্য চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল রিপোর্টের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা সব আল্ট্রাসনোগ্রাম, পরীক্ষার রিপোর্ট, চিকিৎসার কাগজপত্র, প্রেসক্রিপশন ও হাসপাতালের রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে তারা।


এর আগে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুল ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্বজনদের বিক্ষোভের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।


এদিকে বর্তমান ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য জানা গেলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল রিপোর্ট বা রোগীর অবস্থা মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি ছিল কি না—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।


একটি পরিবারের অনাগত সন্তান হারানোর এ ঘটনায় রিপোর্টের সত্যতা, চিকিৎসা-সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা এবং হাসপাতালের রেকর্ড খতিয়ে দেখে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন হলে একদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের সুযোগ পাবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।