CERN-এর বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, বিজয়ী POLARIS
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এসেছে উল্লেখযোগ্য এক সাফল্য। CERN-এর উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্বখ্যাত Beamline for Schools (BL4S) প্রতিযোগিতার ১৩তম আসরে বিজয়ী পাঁচ দলের একটি হয়েছে বাংলাদেশের Team POLARIS। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।
২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮৯টি দেশ থেকে রেকর্ড ৭১২টি দল অংশ নেয়। চার হাজার পাঁচশর বেশি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী কণা পদার্থবিজ্ঞানের ওপর নিজেদের পরীক্ষার প্রস্তাব জমা দেয়। সেখান থেকে বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা ও প্রস্তাবের মান বিবেচনায় পাঁচটি দলকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়।
বাংলাদেশের POLARIS দলে যারা
বাংলাদেশের বিজয়ী দল POLARIS গঠিত হয়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। দলটির সদস্যরা চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ এবং কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর থেকে অংশ নেয়।
CERN-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ী পাঁচ দলের মধ্যে ভারত, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দলও রয়েছে। বাংলাদেশের POLARIS দলকে তাদের প্রস্তাবিত পরীক্ষা পরিচালনার জন্য জার্মানির University of Bonn-এর ELSA accelerator-এ স্বাগত জানানো হয়।
CERN-এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা
Beamline for Schools হলো মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য CERN-এর উদ্যোগে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। এতে শিক্ষার্থীরা কণা ত্বরণযন্ত্রের beamline ব্যবহার করে বাস্তব পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষা চালানোর প্রস্তাব দেয়।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ২০২৬ সালে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এবারের ৭১২টি প্রস্তাব এসেছে ৮৯টি দেশ থেকে এবং অংশ নিয়েছে ৪,৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী। CERN জানিয়েছে, এটি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রস্তাব ও অংশগ্রহণকারী দেশের রেকর্ড।
বাস্তব accelerator-এ পরীক্ষা করার সুযোগ
বিজয়ী দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বাস্তব particle accelerator-এর beamline-এ নিজেদের পরিকল্পিত পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ। ২০২৬ সালের পাঁচ বিজয়ী দলের মধ্যে ভারতের attoPION ও তুরস্কের PionIST 3 CERN-এ পরীক্ষা পরিচালনা করে। যুক্তরাজ্যের Mobile MIPs এবং যুক্তরাষ্ট্রের Centauri Stars পরীক্ষা চালায় DESY-তে। আর বাংলাদেশের POLARIS-এর পরীক্ষার স্থান ছিল University of Bonn-এর ELSA accelerator।
আগস্টে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত কার্যক্রমে POLARIS দল ELSA-তে তাদের পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করে। CERN-এর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট ২০২৬ আয়োজিত চূড়ান্ত উপস্থাপনা ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে POLARIS-এর উপস্থাপনার জন্য আলাদা সময় নির্ধারিত ছিল।
বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চায় নতুন সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য দেশের স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পদার্থবিজ্ঞান ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রস্তাব তৈরি করে POLARIS-এর বিজয় তরুণ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
CERN-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মান ও বৈচিত্র্য ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা কণা পদার্থবিজ্ঞানের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে এবং বিজয়ী দলগুলো তাদের পরিকল্পনাকে বাস্তব accelerator beamline-এ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার সুযোগ পেয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ BSS-এর প্রতিবেদনে এটিকে BL4S প্রতিযোগিতায় দেশের প্রথম বিজয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ৭১২টি দলের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের POLARIS-এর এই সাফল্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করেছে।