নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জরুরি সহায়তা, ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ছাড় করল WHO
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ছাড় করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। রোববার (৩০ আগস্ট) সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক স্বাস্থ্য জরুরি তহবিল—South-East Asia Regional Health Emergency Fund (SEARHEF) থেকে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।
WHO বলছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্য ও অন্যান্য তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে অর্থটি ব্যবহার করা হবে। সংস্থাটি একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে বহুমুখী তাঁবুও সরবরাহ করেছে।
ভয়াবহ দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল
২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম এখনো চলছে। ৩০ আগস্টের Reuters ও AP-এর প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০-তে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়েছে এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন সরকারি হিসাবের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্যোগের কারণে সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
আগেই চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছিল WHO
WHO জানিয়েছে, বন্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থাটি জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী নেপালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ছিল একটি Interagency Emergency Health Kit, যা প্রায় ১০ হাজার মানুষের তিন মাসের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে ছয়টি বহুমুখী তাঁবু পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনের ভিত্তিতে সার্জিক্যাল মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ আরও বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রীও সরবরাহ করা হয়েছে।
জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্ব
বন্যা ও ভূমিধসের পর আহত মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সাধারণ ও জরুরি চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
WHO-এর জরুরি তহবিল ও চিকিৎসাসামগ্রী এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সেবা চালু রাখা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।
WHO: উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারে পাশে থাকবে সংস্থা
WHO South-East Asia Regional Office-এর Officer-in-Charge ড. নিলেশ বুদ্ধ বলেছেন, জরুরি তহবিল তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করবে। নেপালের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও WHO সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে নেপালে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে আন্তর্জাতিক সহায়তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধার ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।