ঢাবিতে পরীক্ষায় AI ব্যবহার করে নকল, দুই শিক্ষার্থীর শাস্তি
শিক্ষা ডেস্ক ||
পরীক্ষার হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পৃথক দুটি ঘটনায় একজন পরীক্ষার্থী Google Gemini এবং অন্যজন ChatGPT ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট গত ৩১ আগস্ট ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে এসব শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রী শেখর চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত ৭ সেপ্টেম্বরের আদেশে শাস্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
জেমিনাই ব্যবহার, বাতিল দুই পরীক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাথুন করিব চৌধুরী ১১ জুন একটি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। পরীক্ষা চলাকালে তাঁর উত্তরপত্র জব্দ করার পর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে Google-এর AI সেবা Gemini ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Gemini ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তাঁর উত্তরপত্রের দুটি লাইন Gemini থেকে পাওয়া উত্তরের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী দুটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছে।
ChatGPT দিয়ে উত্তর খোঁজার অভিযোগ
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌস রহমান-এর বিরুদ্ধে আলাদা ঘটনায় ChatGPT ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট নথি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ১০৭ নম্বর কোর্সের পুনঃপরীক্ষা চলাকালে ফেরদৌস সকাল ১১টার দিকে পরীক্ষার হল থেকে বের হন। পরে বিভাগের করিডরে একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর ChatGPT-তে খোঁজার চেষ্টা করার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁকে আটক করেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পরে জব্দ করা ফোনের সার্চ হিস্ট্রি পরীক্ষা করে পরীক্ষায় থাকা প্রশ্নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া যায় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিল এবং পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মোট ৬৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
AI ব্যবহার করে নকলের এই দুটি ঘটনা ঢাবিতে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের বৃহত্তর একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী, পরীক্ষা ও অন্যান্য অপরাধে মোট ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তাদের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিল করার পাশাপাশি পরবর্তী এক থেকে তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। শাস্তিগুলো ‘Exam+1’, ‘Exam+2’ ও ‘Exam+3’—এই তিন ধরনের মেয়াদে প্রয়োগ করা হয়েছে।
জব্দ মোবাইল ফেরতের সুযোগ
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় জব্দ হওয়া মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।