অনলাইন, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
AIUB-তে Junior Executive নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরির নতুন সুযোগ, মেডিকেল-ব্যাংকিং-প্রযুক্তি-আইনসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োগ বিশ্বে চিকিৎসক সংকটের আশঙ্কা—অবসরের মুখে প্রতি চারজনের একজন চিকিৎসক, সতর্ক করল WHO AI নিয়ে বড় প্রযুক্তি-আলোচনা: ভবিষ্যৎ AI নিজেই উন্নত হতে পারবে? NASA-এর Crew-13 প্রস্তুতিতে নতুন অগ্রগতি, কোয়ারেন্টিনে চার নভোচারী মিলি ববি ব্রাউন ও জেক বংজিওভির পরিবারে নতুন সদস্য, দ্বিতীয় সন্তান দত্তক ১০ হাজার স্টেপ নয়—হাঁটার গতিও গুরুত্বপূর্ণ, বলছে নতুন গবেষণা পাকিস্তান স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ঢাবিতে পরীক্ষায় AI ব্যবহার করে নকল, দুই শিক্ষার্থীর শাস্তি এশিয়ান গেমসে হকির শুরুতেই বাংলাদেশের ৫–০ গোলের হার, সামনে জাপান ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে LNG সংকটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ রাশিয়ায় শুরু তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন, দখলকৃত ইউক্রেনীয় এলাকাতেও ভোট হরমুজ প্রণালিতে টোগো-নিবন্ধিত তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি ইরানের ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন চাপ
হোম অর্থনীতি ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে

ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 4
ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে

নিজস্ব প্রতিনিধি ||


ডলার শক্তিশালী হলে টাকার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণের খরচে চাপ তৈরির আশঙ্কা


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ডলারের গতিপথ, বৈশ্বিক ঋণবাজার এবং দেশের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির ওপর। তবে ফেডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং আন্তর্জাতিক ঋণের খরচ বাড়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও বৈদেশিক অর্থায়ন-নির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।


১৬ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (FOMC) সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো উঁচু এবং এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।


ডলার শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের সামনে যে চাপ


ফেডের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের মূল্য বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর ডলার সূচক প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। বাজারে আরও সুদহার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।


বাংলাদেশের জন্য এর একটি সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ডলারের স্পট রেফারেন্স রেট ছিল ১ ডলারে ১২৩ দশমিক ০০৭৮ টাকা। একই সময়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিড-আস্ক রেট ছিল প্রায় ১২২ দশমিক ৯০ থেকে ১২৩ টাকা।


টাকার অবমূল্যায়ন হলে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্যসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় খরচ বাড়তে পারে। তবে ফেডের সিদ্ধান্ত একাই এসব ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই; বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আমদানি চাহিদা, রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও ডলারের সরবরাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


বৈদেশিক ঋণ ও অর্থায়নে বাড়তে পারে ব্যয়


যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ফেডের সুদহার বাড়লে সাধারণত আন্তর্জাতিক সুদের হার ও বন্ডের ফলন বাড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ফলে ডলারভিত্তিক ঋণ বা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন অর্থায়ন নেওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণের খরচ বাড়তে পারে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে ফেডের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর মার্কিন ট্রেজারি ফলন বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শও দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ফলন বৃদ্ধির পেছনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূলধনী বিনিয়োগ ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথা বলেছেন।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রায় নতুন ঋণ নেওয়া, পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের খরচে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ঋণের সুদ বা বাংলাদেশের মোট ঋণব্যয় কতটা বাড়বে, তা ঋণের ধরন, মুদ্রা, সুদের কাঠামো ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।


বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে কিছুটা শক্তিশালী ভিত্তি


অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার; BPM6 পদ্ধতিতে তা ছিল প্রায় ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।


বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপও করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বরের নিলামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয়টি ব্যাংকের কাছে ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই নিলামে ডলারের কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা এবং ওজনযুক্ত গড় হার ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা।


এতে বোঝা যায়, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ওঠানামা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ভবিষ্যতে ডলারের বৈশ্বিক শক্তি কতটা বাড়ে এবং দেশের আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর চাপের মাত্রা নির্ভর করবে।


আমদানি ও মূল্যস্ফীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব


ডলারের দাম বাড়লে একই পরিমাণ আমদানি পণ্য কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়। এর প্রভাব জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আমদানি পণ্যে পড়তে পারে।


এদিকে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছিল।


ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের সম্ভাব্য চাপ বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক পণ্যের দাম এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।


সামনে নজর থাকবে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তে


ফেডের সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বাড়ানো হলেও বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। ফেডের প্রকাশিত পূর্বাভাসে ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জন ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অন্তত আরও একটি সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখেছেন।