রাশিয়ায় শুরু তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন, দখলকৃত ইউক্রেনীয় এলাকাতেও ভোট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
রাশিয়ায় শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন। ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই ভোটে দেশটির নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কথা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটি রাশিয়ার প্রথম জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গভর্নর ও আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
৪৫০ আসনে ভোট
রাশিয়ার স্টেট ডুমার মোট ৪৫০টি আসনের অর্ধেক জাতীয় দলীয় তালিকার ভিত্তিতে এবং বাকি অর্ধেক একক আসনের নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ হবে। প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
স্টেট ডুমা নির্বাচনের পাশাপাশি ১১টি অঞ্চলের গভর্নর এবং ৩৯টি অঞ্চলের আইনসভা নির্বাচনের ভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দখলকৃত ইউক্রেনীয় এলাকাতেও ভোট
নির্বাচনের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো ইউক্রেনের রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি এলাকায় ভোট আয়োজন। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশের পাশাপাশি ক্রিমিয়া ও সেভাস্তোপলেও রাশিয়ার নির্বাচনী কাঠামোর আওতায় ভোট হচ্ছে। রাশিয়া এসব অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করলেও ইউক্রেন ও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার নির্বাচন আয়োজনকে কিয়েভ অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাময়িকভাবে দখলকৃত ভূখণ্ডে আয়োজিত এ ধরনের নির্বাচন বা তার ফলাফল তারা স্বীকৃতি দেবে না। ইইউর সাম্প্রতিক নথিতে ১৮–২০ সেপ্টেম্বরের স্টেট ডুমা নির্বাচন এবং ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে এর প্রযোজ্যতা নিয়ে আলাদা অবস্থান নথিভুক্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচনের আগে রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়েছে এবং উদারপন্থী ইয়াব্লোকো পার্টিকে স্টেট ডুমার দলীয় তালিকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে; যদিও কিছু একক আসনে তাদের প্রার্থী রয়েছে।
রাশিয়ার ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি ২০২১ সালের নির্বাচনে ডুমার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনেও দলটির প্রভাব বজায় থাকার প্রত্যাশার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে ভোটারদের প্রকৃত রায় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রভাব
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান প্রেক্ষাপট। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে দেশের ঐক্য এবং যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রতি সমর্থনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনাও নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করছে।
প্রথম দিনের ভোটে দক্ষিণ রাশিয়া ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনীয় এলাকার কিছু ভোটকেন্দ্রে ড্রোন হামলার কারণে সাময়িক বিঘ্নের কথা রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা জানান, ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি ভোটকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দখলকৃত লুহানস্কের ১৪টি ভোটকেন্দ্রেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার কথা তিনি জানিয়েছেন। এসব তথ্য রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার শেষ হবে ভোট
১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ভোট ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ ফল ও আসনভিত্তিক চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশে আরও সময় লাগতে পারে।
দখলকৃত ইউক্রেনীয় এলাকায় ভোট আয়োজন এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ—এই দুই বিষয় এবারের নির্বাচনের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়ার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসব দখলকৃত এলাকায় রাশিয়ার নির্বাচনকে বৈধ বলে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।