অনলাইন, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
AIUB-তে Junior Executive নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরির নতুন সুযোগ, মেডিকেল-ব্যাংকিং-প্রযুক্তি-আইনসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োগ বিশ্বে চিকিৎসক সংকটের আশঙ্কা—অবসরের মুখে প্রতি চারজনের একজন চিকিৎসক, সতর্ক করল WHO AI নিয়ে বড় প্রযুক্তি-আলোচনা: ভবিষ্যৎ AI নিজেই উন্নত হতে পারবে? NASA-এর Crew-13 প্রস্তুতিতে নতুন অগ্রগতি, কোয়ারেন্টিনে চার নভোচারী মিলি ববি ব্রাউন ও জেক বংজিওভির পরিবারে নতুন সদস্য, দ্বিতীয় সন্তান দত্তক ১০ হাজার স্টেপ নয়—হাঁটার গতিও গুরুত্বপূর্ণ, বলছে নতুন গবেষণা পাকিস্তান স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ঢাবিতে পরীক্ষায় AI ব্যবহার করে নকল, দুই শিক্ষার্থীর শাস্তি এশিয়ান গেমসে হকির শুরুতেই বাংলাদেশের ৫–০ গোলের হার, সামনে জাপান ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে LNG সংকটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ রাশিয়ায় শুরু তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন, দখলকৃত ইউক্রেনীয় এলাকাতেও ভোট হরমুজ প্রণালিতে টোগো-নিবন্ধিত তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি ইরানের ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন চাপ
হোম অর্থনীতি LNG সংকটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ

LNG সংকটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 2
LNG সংকটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ

নিজস্ব প্রতিনিধি ||


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাব এবার সরাসরি বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পড়ছে। এশিয়ার স্পট LNG-এর দাম প্রায় ৩০ ডলার প্রতি MMBtu-তে উঠে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে, একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর উৎপাদন খাতে।


বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা LNG-এর ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল—দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি LNG-নির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে LNG-এর দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।


হরমুজ সংকটে বাড়ছে LNG-এর দাম


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে LNG সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে LNG সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।


এশিয়ার স্পট LNG-এর দাম প্রায় ৩০ ডলার/MMBtu-তে পৌঁছেছে। সংঘাতের আগে দাম ছিল প্রায় ১০ ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের মধ্যে অতিরিক্ত LNG সংগ্রহের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।


হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি কমোডিটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে ১০ দিনের গড় ছিল ১৬টি। যদিও কয়েকটি LNG জাহাজ আবার প্রণালির বাইরে দেখা গেছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।


বাংলাদেশের ওপর সরাসরি প্রভাব


বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম। এই ঘাটতি পূরণে দেশটি আমদানি করা LNG-এর ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের নথিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রাথমিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০–৬৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আসে এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় LNG আমদানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ২০১৮ সালে নিয়মিত LNG আমদানি শুরু করে এবং ২০২০ সাল থেকে স্পট মার্কেট থেকেও LNG কেনা শুরু করে।


বর্তমান সংকটে শুধু LNG-এর দাম বাড়েনি, সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের দুটি ভাসমান LNG টার্মিনাল থেকে সরবরাহ চলতি সপ্তাহে প্রায় ১,০১৫ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছে, যা সম্মিলিত সক্ষমতার প্রায় ৯২ শতাংশ। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২,৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে চাহিদা আনুমানিক ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা প্রায় স্বাভাবিক হলেও জাতীয় গ্যাস ঘাটতি এখনও বড়।


বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়ছে ঝুঁকি


গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে উৎপাদন কমে যেতে পারে।LNG সংকটের কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে।


বিদ্যুৎ বিভাগের ১৫ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩২,৬৮৮ মেগাওয়াট এবং সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৭,২০১ মেগাওয়াট। তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই সব কেন্দ্র প্রয়োজন অনুযায়ী চালানো যায় না; জ্বালানি সরবরাহের ওপর গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নির্ভরশীল।


শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত


গ্যাসের সংকট বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি সরাসরি শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের কিছু কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতসহ গ্যাসনির্ভর শিল্পে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি সরবরাহ, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে।


বাংলাদেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ LNG মূল্যের নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যয়বহুল LNG, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ শিল্প খাতের কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলছে।


বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ


আন্তর্জাতিক বাজারে LNG-এর দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করা কার্গোর জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত চারটি স্পট LNG কার্গোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুলটির দাম ছিল ২৮.০৩ ডলার/MMBtu। এর আগে ২৪ আগস্ট অনুমোদিত দুটি কার্গোর দাম ছিল যথাক্রমে ২৪.৬২ ও ২৪.২৫ ডলার/MMBtu।


উচ্চ আমদানি ব্যয়ের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। LNG-এর জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ভর্তুকির চাপ বাড়তে পারে এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।


বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ


সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে LNG কেনার পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মতো উৎস থেকে বিকল্প LNG সরবরাহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে LNG সংগ্রহ করলেও ব্যয় কমার নিশ্চয়তা নেই।


সংকট দীর্ঘ হলে কী হতে পারে


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির সরবরাহ পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল থাকলে বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে—উচ্চ দামে LNG কিনে বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন চালু রাখা, নাকি সীমিত সরবরাহ বিভিন্ন খাতে ভাগ করে দেওয়া।


বর্তমানে বাংলাদেশের LNG টার্মিনালগুলো প্রায় স্বাভাবিক সক্ষমতায় ফিরে এলেও জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। ফলে সংকটের প্রভাব নির্ভর করছে শুধু টার্মিনালে LNG পৌঁছানোর ওপর নয়; আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, কার্গোর প্রাপ্যতা, জাহাজ চলাচল এবং বাংলাদেশের আমদানি সক্ষমতার ওপরও।


বিশ্ববাজারে LNG সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমদানি ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন—তিন ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।