অনলাইন, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
AIUB-তে Junior Executive নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরির নতুন সুযোগ, মেডিকেল-ব্যাংকিং-প্রযুক্তি-আইনসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োগ বিশ্বে চিকিৎসক সংকটের আশঙ্কা—অবসরের মুখে প্রতি চারজনের একজন চিকিৎসক, সতর্ক করল WHO AI নিয়ে বড় প্রযুক্তি-আলোচনা: ভবিষ্যৎ AI নিজেই উন্নত হতে পারবে? NASA-এর Crew-13 প্রস্তুতিতে নতুন অগ্রগতি, কোয়ারেন্টিনে চার নভোচারী মিলি ববি ব্রাউন ও জেক বংজিওভির পরিবারে নতুন সদস্য, দ্বিতীয় সন্তান দত্তক ১০ হাজার স্টেপ নয়—হাঁটার গতিও গুরুত্বপূর্ণ, বলছে নতুন গবেষণা পাকিস্তান স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ঢাবিতে পরীক্ষায় AI ব্যবহার করে নকল, দুই শিক্ষার্থীর শাস্তি এশিয়ান গেমসে হকির শুরুতেই বাংলাদেশের ৫–০ গোলের হার, সামনে জাপান ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে LNG সংকটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ রাশিয়ায় শুরু তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন, দখলকৃত ইউক্রেনীয় এলাকাতেও ভোট হরমুজ প্রণালিতে টোগো-নিবন্ধিত তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি ইরানের ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন চাপ
হোম শিক্ষা পাকিস্তান স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা

পাকিস্তান স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৩১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 2
পাকিস্তান স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা

শিক্ষা ডেস্ক ||


পাকিস্তান সরকারের ‘আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপ’ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শুরুতে বৃত্তিটিকে সম্পূর্ণ অর্থায়িত হিসেবে প্রচার করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে পাওয়া তথ্য বা অফার লেটারে সব সুবিধার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মাসিক ভাতা, খাবার, যাতায়াত ও বিমানভাড়ার মতো খরচ কে বহন করবে—তা নিয়ে তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন।


তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অভিযোগটি পুরোপুরি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (PID) ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের পদ্ধতি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে; তবে যোগ্য সব শিক্ষার্থীকে সমতুল্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।


শুরুতে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তির ঘোষণা


পাকিস্তানের Higher Education Commission (HEC)-এর সরকারি ওয়েবসাইটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘Allama Muhammad Iqbal Scholarships’ কর্মসূচিকে fully funded scholarship হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, হোস্টেল ও মেস চার্জ, সেটেলমেন্ট অ্যালাওয়েন্স, বিমানভাড়া এবং বই ও স্টেশনারি খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। বৃত্তিটি স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি—তিন পর্যায়ের জন্যই প্রযোজ্য।


এই ঘোষণাই অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তিটির প্রতি আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত কিছু শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে যে তথ্য পেয়েছেন, সেখানে সুবিধার পরিধি নিয়ে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।


মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কী?


বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েকজন মাস্টার্স পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থী বলেছেন, তাদের জানানো হয়েছে যে টিউশন ফি ও আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে; কিন্তু শুরুতে প্রচারিত বৃত্তির আওতাভুক্ত মাসিক ভাতা, বিমানভাড়া ও অন্যান্য খরচ নিয়ে তারা নিশ্চিত তথ্য পাননি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে হোস্টেল সুবিধা নেই, সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীকে কেবল টিউশন ফি মওকুফের কথা জানানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


একজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যিনি ডেটা সায়েন্সে মাস্টার্সের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, জানান—আবেদনের সময় মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সুবিধা স্নাতক পর্যায়ের চেয়ে আলাদা হতে পারে, এমন বিষয় তাদের শুরুতেই স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। আগস্টে পাওয়া একটি ই-মেইলে তিনি শুধু টিউশন ফি ও আবাসন-সংক্রান্ত সুবিধার উল্লেখ দেখতে পান বলে জানান।


এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন নির্বাচিত শিক্ষার্থী বৃত্তিটি গ্রহণ করা তাদের পক্ষে আর্থিকভাবে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। কেউ কেউ সুযোগটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রকাশের পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের পদ্ধতি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা হতে পারে। তবে যোগ্য সব শিক্ষার্থীকে সমতুল্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।


ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের বক্তব্যও একই ধরনের। হাইকমিশন জানিয়েছে, মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং সুবিধা প্রদানের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে; তবে কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের সমতুল্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


তবে ঠিক কোন খাতে কত অর্থ দেওয়া হবে এবং মাস্টার্স পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য মূল বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সব সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এ বিষয়ে বিস্তারিত আর্থিক কাঠামো এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট হয়নি। মূল বিজ্ঞাপনে তালিকাভুক্ত সব সুবিধা মাস্টার্স শিক্ষার্থীরা পাবেন কি না—এ বিষয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।


দ্বিতীয় ব্যাচে নির্বাচিত ১৬১ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী


পাকিস্তান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোরের আওতায় দ্বিতীয় ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষায় ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১২৫ জন স্নাতক, ২২ জন মাস্টার্স এবং ১৪ জন পিএইচডি পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন—মোট ১৬১ জন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


এর আগে প্রথম ব্যাচে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন বলে পাকিস্তানের সরকারি তথ্য জানানো হয়েছে। পাঁচ বছরে মোট ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


মূল বিজ্ঞপ্তি বনাম বাস্তব সুবিধা—প্রশ্ন স্পষ্টতার


বিতর্কের মূল জায়গাটি হলো বৃত্তির ঘোষিত সুবিধা এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কাছে পরবর্তী সময়ে পৌঁছানো তথ্যের মধ্যে যে পার্থক্যের অভিযোগ উঠেছে, তার ব্যাখ্যা। HEC-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বৃত্তিতে টিউশন, স্টাইপেন্ড, হোস্টেল ও মেস, সেটেলমেন্ট অ্যালাওয়েন্স, বিমানভাড়া এবং বই-স্টেশনারি অন্তর্ভুক্ত।


অন্যদিকে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও সব যোগ্য শিক্ষার্থী সমতুল্য সহায়তা পাবেন। ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ‘সমতুল্য আর্থিক সহায়তা’ ঠিক কোন কোন খাতে এবং কী পরিমাণে দেওয়া হবে।