ঢাকায় আবারও রাজপথে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
নিউজ ডেস্ক | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
রাজধানী ঢাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে মিছিলের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানারও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে—উত্তরা পশ্চিম থানার আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে জুনায়েদ মৃধা (১৯), রাকিবুল হাসান পাপ্পু (২৩), সাজ্জাদ হোসেন শুভ (১৯) ও মো. আব্দুল্লাহকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও আওয়ামী লীগ ও এর নিষিদ্ধ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জুনে মহাখালীতে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী মিছিল করেন বলে জানিয়েছিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ওই মিছিলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজনকে আটকও করেছিল।
সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ঢাকার ধউর-আশুলিয়া এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল করার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ১০ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কামারখন্দ অংশে ঝটিকা মিছিল করেন বলে কালবেলা জানিয়েছে। ওই মিছিল থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
এর আগে আগস্টের শেষ দিকেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে ১০ কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। পরে থানার হাজতে তাদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির উৎস ও কীভাবে সেটি ধারণ করা হলো, তা তদন্তের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও বা পোস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মিছিলের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অতীতে পুরোনো বা অন্য এলাকার মিছিলের ভিডিওকে নতুন ঘটনা বা ঢাকার ঘটনা হিসেবে প্রচারের নজিরও রয়েছে। রিউমর স্ক্যানার এমন একটি ভিডিও যাচাই করে দেখেছিল, যেখানে চট্টগ্রামের পুরোনো আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক মিছিল হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।
এদিকে, “শেখ হাসিনার নির্দেশে ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের মিছিল”—এমন দাবির বিষয়ে বর্তমান অনুসন্ধানে ১০ সেপ্টেম্বরের নির্দিষ্ট ঢাকার ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজপথে থাকার কথা বলা হলেও, সেটিকে বর্তমান ঘটনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মিছিল বা মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব কর্মসূচি ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো মিছিল শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে হয়েছে—এ দাবি করার মতো যাচাইযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।