শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, দায়িত্বে ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান অসন্তোষের মধ্যে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং বেতন-ভাতা ও কর্মপরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান। শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্য ও বাসাভাড়াসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, কারখানার মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি আদেশের চাপের বিষয়টি সামনে আনছে।
গত ১ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর এবং সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গাজীপুরের কয়েকটি এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে শিল্পাঞ্চলের যান চলাচল ও কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগের দিনও বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিল। ২ নভেম্বর গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের খবরটি সেই নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রমেরই অংশ।
এদিকে, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি পর্যালোচনার জন্য সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। শ্রমিক প্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন। মালিকপক্ষও কারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিক অসন্তোষ শুধু কারখানার উৎপাদন নয়, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান ধরে রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।