দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে কোম্পানীগঞ্জ প্রশাসনের প্রতি পৌরসভা জামায়াত আমীরের প্রত্যাশা।
মোহাম্মদ উল্যা
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ॥
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সামগ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের প্রতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশারফ হোসাইন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা, গুজব বা উসকানির সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক্ষেত্রে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাড়িঘরে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। সম্ভাব্য গুজব, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
পূজামণ্ডপে যাতায়াতের রাস্তাগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা দরকার। বিশেষ করে কলেজপাড়ার সড়কটি মেরামতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য সরকারি বরাদ্দ ও মানসম্মত চাল যথাযথভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের সহজে শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট পোশাক বা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প বিদ্যুৎ বা জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখাও প্রয়োজন।
গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন এবং কিশোর গ্যাংসহ অপরাধী বা বিশৃঙ্খলাকারীদের মণ্ডপ এলাকায় প্রবেশ প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় ও সংখ্যা সমন্বয় করে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন করা হলে অতিরিক্ত ভিড় ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। নামাজের সময় ও পূজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার সময়সূচির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে পূজামণ্ডপ কমিটি, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও দায়িত্ব বণ্টন করা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎসবের নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়; পূজামণ্ডপ কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। যেকোনো গুজব বা উসকানিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা জরুরি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে কোম্পানীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি, সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় এবং সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্বশীল আচরণই পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে।