ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ডলারের সহায়তা চলতি বছরের পর আর দেবে না যুক্তরাষ্ট্র—এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। তবে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং কয়েক মাস আগেই দুজন এ বিষয়ে একমত হন। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েলের এই সহায়তার প্রয়োজন নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি বড় অঙ্কের অর্থ। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সাহায্য করবে বলেও জানান তিনি।
ঘোষণার পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় বা ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও আল জাজিরার অনুরোধে কোনো মন্তব্য করেনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সহায়তার অর্থ বরাদ্দ দেয় মার্কিন কংগ্রেস; তাই প্রেসিডেন্ট এককভাবে তা বন্ধ করতে পারেন না। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক টমাস ওয়ারিক মনে করেন, চলমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরোধ কর্মসূচির কারণে বছর শেষে সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হবে না; বরং ২০২৭ সালজুড়ে ধাপে ধাপে কমানো হতে পারে।
২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে সহায়তা নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। গত জুনে কুইনিপিয়াক জরিপে ৪৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সমর্থন দিচ্ছে; ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৬৬ শতাংশ। একটি গবেষণা অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলকে অন্তত ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, এপি (পিবিএস নিউজআওয়ার)
প্রতীকী ছবি: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা — James Emery / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)