ইসরায়েলি অবরোধের বিরুদ্ধে ফের ফ্লোটিলা, অক্টোবরে গাজার পথে আন্তর্জাতিক কর্মীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নৌ অবরোধ চ্যালেঞ্জ করে নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা মিশনের ঘোষণা দিয়েছে Freedom Flotilla Coalition (FFC)। সংগঠনটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে যাত্রাবিরতি ও প্রচার কার্যক্রম শেষে ফ্লোটিলাটি অক্টোবর ২০২৬-এ গাজার উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
FFC জানিয়েছে, মিশনের উদ্দেশ্য গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করা এবং অবরোধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো। তবে এখন পর্যন্ত এটি একটি পরিকল্পিত অভিযান; ফ্লোটিলাটি গাজায় পৌঁছেছে বা অবরোধ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউরোপের বিভিন্ন বন্দর হয়ে গাজার পথে
FFC-এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন মিশনের যাত্রা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংগঠনটির Handala II নামের একটি জাহাজ জুন ও জুলাইয়ে নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের বিভিন্ন বন্দরে অবস্থান করেছে।
অন্যদিকে Kate নামের আরেকটি জাহাজ আগস্টে যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল থেকে যাত্রা শুরু করে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্সের বন্দরে গেছে। সামনে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালিতে আরও যাত্রাবিরতির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর গাজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে ফ্লোটিলাটির।
সংগঠনটির ভাষ্য, ইউরোপের প্রতিটি বন্দরে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কর্মসূচির মাধ্যমে গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক জনমত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো হবে।
কারা থাকছেন এই মিশনে
FFC জানিয়েছে, নতুন মিশনে মানবাধিকারকর্মী, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চিকিৎসা পেশাজীবীসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা অংশ নিচ্ছেন।
সংগঠনটি বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে ফ্লোটিলার নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় খাদ্য, পানি, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তারা।
FFC আরও বলেছে, কোনো জাহাজে হামলা, জব্দ বা অংশগ্রহণকারীদের আটক করা হলে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আগের অভিযান নিয়ে উত্তেজনা
নতুন এই উদ্যোগের আগে ২০২৬ সালের মে মাসে গাজামুখী একটি বড় ফ্লোটিলা অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে। FFC-এর দাবি, ওই অভিযানে শত শত অংশগ্রহণকারীকে আটক করা হয়েছিল। সংগঠনটি আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ করেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে FFC-এর বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন; বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ ও পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নতুন মিশনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এর আগে ২০১০ সালের Mavi Marmara অভিযানেও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ১০ জন কর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনা পরবর্তী বছরগুলোতে গাজামুখী ফ্লোটিলা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হয়ে আছে।
অক্টোবরেই গাজার উপকূলে পৌঁছানোর লক্ষ্য
FFC-এর স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জোহার চেম্বারলেইন রেগেভ বলেছেন, সংগঠনটি অক্টোবর মাসে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তবে যাত্রার সুনির্দিষ্ট সময়সূচি, অংশগ্রহণকারী জাহাজের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং গাজার কাছে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েল অতীতে গাজামুখী ফ্লোটিলাগুলোকে তার নৌ অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছে এবং বিভিন্ন অভিযানে জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন মিশনটি গাজার কাছাকাছি পৌঁছালে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।