ছয় দফা দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরু
ঢাকা প্রতিনিধি ||
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর চট্টগ্রামের উদ্দেশে লং মার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে।
সকাল ৭টার দিকে শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের পর সকাল সোয়া ৮টার দিকে নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ছয় দফা দাবি
লং মার্চের আয়োজকদের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ।
এর পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও জানিয়েছে জোটটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব দাবিকে ছয় দফার কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাপলা চত্বরে নেতাদের বক্তব্য
উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বক্তব্য দেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোটের এই লং মার্চ দেশের মানুষের দাবির প্রতিনিধিত্ব করছে। তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংকটসহ জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
এর আগে শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছিলেন, কর্মসূচিটি সরকার পতনের আন্দোলন নয় এবং এটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছিলেন।
পথে একাধিক সমাবেশ
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লং মার্চের বহর থামিয়ে পথসভা ও সমাবেশ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর সেতু এলাকার ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় কর্মসূচি রয়েছে।
লং মার্চের চূড়ান্ত গন্তব্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান। সেখানে বিকেলে সমাপনী সমাবেশ করার কথা রয়েছে।
বড় গাড়িবহরের প্রস্তুতি
জোটের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, লং মার্চে বিপুলসংখ্যক গাড়ি অংশ নেবে। প্রস্তুতি পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি নিয়ে বহর গঠনের কথা জানিয়েছিলেন আয়োজকেরা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনিক সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছিল জোটটি।
লং মার্চকে ঘিরে জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।