প্রায় ৫০ লাখ পোশাক শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশনে আনার উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমবিষয়ক এক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
দ্রুত অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
আলোচনায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান তৈরি পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে স্কিমটি আরও জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে শুরুতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাবও তিনি তুলে ধরেন।
পেনশনের বয়স ৫৫ করার প্রস্তাব
পোশাক শ্রমিকদের জন্য পেনশন পাওয়ার বয়স বর্তমান ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পোশাক শ্রমিকদের কর্মজীবনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে স্কিমটিকে তাদের জন্য আরও উপযোগী ও আকর্ষণীয় করা প্রয়োজন।
প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে যুক্ত করার চ্যালেঞ্জ
বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে এর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে তিনি উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় পোশাক কারখানার মালিক, কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশ নেন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং স্কিমের কার্যক্রম ও সম্ভাব্য সুবিধা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন।
সর্বজনীন পেনশনে বাড়ছে অংশগ্রহণের পরিধি
সরকারের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বর্তমানে ‘সমতা’, ‘সুরক্ষা’, ‘প্রগতি’ ও ‘প্রবাস’—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চার স্কিমে মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৮ জন।
তৈরি পোশাক খাতের বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অংশগ্রহণের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।