শিশুর পাসপোর্টে মা-বাবার নাগরিকত্বের প্রমাণ চায় ট্রাম্প প্রশাসন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়ায় নতুন শর্ত আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিশুর পাসপোর্টের আবেদন করলে তার মা-বাবা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্ব অথবা অভিবাসন স্ট্যাটাসের প্রমাণ দিতে হতে পারে।
তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এটি বর্তমানে কার্যকর নতুন পাসপোর্ট নিয়মও নয়। এরই মধ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে।
কী পরিবর্তন আনতে চায় প্রশাসন
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুর নাগরিকত্ব নির্ধারণের সময় আবেদনকারীর মা-বাবার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্ট্যাটাসের তথ্য ও প্রমাণ চাওয়া হবে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মা-বাবাকে নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দিতে হতে পারে। নাগরিক না হলে বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাসের প্রমাণ হিসেবে স্থায়ী বাসিন্দার কার্ড বা I-94-এর মতো নথি চাওয়া হতে পারে।
বর্তমান নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূলত শিশুর নাগরিকত্বের প্রমাণ, মা-বাবার সঙ্গে শিশুর সম্পর্কের প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। মা-বাবার নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্ট্যাটাসের আলাদা প্রমাণ সাধারণভাবে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সম্পর্ক
এই উদ্যোগটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৬ আগস্ট ২০২৬-এর নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ওই আদেশে প্রশাসন তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’সহ কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা করেছে।
প্রস্তাবিত পাসপোর্ট নির্দেশনার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর শিশুর পাসপোর্ট আবেদন যাচাইয়ের সময় মা-বাবার নাগরিকত্ব ও অভিবাসন স্ট্যাটাস বিবেচনায় নিতে চায়। ফলে পাসপোর্ট প্রক্রিয়াটি শুধু পরিচয় ও নাগরিকত্বের নথি যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মা-বাবার স্ট্যাটাস যাচাইয়ের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
আদালতে চ্যালেঞ্জ, আপাতত বাস্তবায়ন আটকে
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ২ সেপ্টেম্বর মেরিল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়নে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বিচারক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও সুপ্রিম কোর্টের নজিরের সঙ্গে প্রশাসনের নতুন অবস্থানের গুরুতর সংঘাত রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আদেশের ভিত্তিতে শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার বা চ্যালেঞ্জ করার কার্যক্রম আপাতত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তবে আদালতের এই আদেশের পরও পররাষ্ট্র দপ্তর কীভাবে পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এখনই কি মা-বাবাকে নতুন নথি দিতে হচ্ছে?
না। প্রস্তাবিত নির্দেশনাটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর হয়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বর্তমানে নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী মা-বাবার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্ট্যাটাসের আলাদা প্রমাণ বাধ্যতামূলক হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় শিশুর নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসনদ, কনস্যুলার রিপোর্ট অব বার্থ অ্যাব্রড, নাগরিকত্বের সনদ বা বৈধ মার্কিন পাসপোর্টের মতো নথি গ্রহণ করা হয়। শিশু পাসপোর্টের আবেদনে মা-বাবার পরিচয় ও শিশুর সঙ্গে আইনগত সম্পর্কের প্রমাণও প্রয়োজন।
প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এবং আদালতের আইনি বাধা দূর হলে পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়ায় মা-বাবার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্ট্যাটাস যাচাইয়ের নতুন ধাপ যুক্ত হতে পারে।