জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সার্ক পুনরুজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
জার্মানির উদ্দেশে যাত্রাপথে বাংলাদেশে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রায় ৪৫ মিনিটের এই ট্রানজিটের পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে তার সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বিমানবন্দরে স্বাগত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শেরিং তোবগেকে স্বাগত জানান ড. আবদুল মঈন খান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা ভিভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থানের পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জার্মানির উদ্দেশে রওনা হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অবস্থানের সময়ের হিসাবে সামান্য পার্থক্য থাকলেও, সব সূত্রই এটিকে একটি সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের সমর্থন চাওয়া
সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক (SAARC) পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে ভুটানের সমর্থন চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সম্মিলিত কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় বাংলাদেশ ও ভুটানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ভুটান।
গেলে্ফু মাইন্ডফুলনেস সিটিতে বাংলাদেশের আগ্রহ
আলোচনায় ভুটানের গেলে্ফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (Gelephu Mindfulness City—GMC) প্রকল্পে বাংলাদেশের অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির উন্নয়নে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একই আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই যাত্রাবিরতি দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ছে। এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেরিং তোবগে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করেন। ওই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে যৌথভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ভুটানের শীর্ষ নেতৃত্বের বাংলাদেশে যাতায়াতও দুই দেশের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে। ২৬ আগস্ট ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকও ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছিলেন।