অনলাইন, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
নেত্রকোণায় যুবকের উপর মুখোশধারীদের গুলি, গুরুতর আহত দুর্গাপুরে নির্মম হত্যার শিকার সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে ডেপুটি স্পিকার চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাড়বে উৎপাদন-রপ্তানি লালনের মানবধর্ম ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনে মুখর ছেঁউড়িয়া, স্মরণোৎসবে সাধু-ভক্তদের ঢল নোয়াখালী'র বেগমগঞ্জে মুখোশধারীদের গুলিতে ব্যবসায়ী আহত, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় প্রেরণ লক্ষ্মীপুরে সম্ভাব্য ৭১০ কোটি টাকার সুপারির বাজার;গাছে গাছে ব্যস্ত শ্রমিক-কৃষক নোয়াখালী'র বসুরহাটে খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ১,৭২০ শিক্ষার্থী কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা, চেয়ারম্যান-মেয়র পদে ১১ জন নাসিরনগরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন, সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান এমপি এম এ হান্নানের। নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নওগাঁয় গাঁজাসহ আটক হওয়া ছাত্রদলের আহ্বায়ক বহিষ্কার কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, দুই মেয়েসহ যশোরের দম্পতির ‘মৃত্যু দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সীমান্তের ৯ মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন খুলনা ২১ বিজিবি অধিনায়ক কাঁচের টুকরা দিয়ে টাকার কারসাজি! শার্শায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ বেনাপোলে পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ ভ্যান চালক আটক
হোম › সম্পাদকীয় ও মতামত › জ্বালানি সংকটের দায় লংমার্চে নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতায়

জ্বালানি সংকটের দায় লংমার্চে নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতায়

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১:০৩ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 93
জ্বালানি সংকটের দায় লংমার্চে নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতায়

মো: নাজমুল হাসান বাবু,

সম্পাদকীয় মতামত॥


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশে জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—দেশে যদি তেলের সংকটই থাকে, তাহলে এত দীর্ঘ লংমার্চ কীভাবে আয়োজন করা হলো? আবার কারও কারও দাবি, এই কর্মসূচির কারণে নাকি দেশের জ্বালানি সংকট আরও বেড়েছে।


আমার দৃষ্টিতে, এ ধরনের বক্তব্য মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার নামান্তর। কোনো রাজনৈতিক দল লংমার্চ করবে কি না, মিছিল করবে কি না, আন্দোলন করবে কি না—এটি সেই দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ এবং গণতান্ত্রিক পরিসরে তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা যদি নিজেদের অর্থে কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সেটিকে দেশের জ্বালানি সংকটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটি অবশ্যই প্রশ্নের বিষয়।


বাংলাদেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে সংকট রয়েছে, সেটি বাস্তবতা। এই সংকটের পেছনে সরবরাহ, আমদানি, বৈদেশিক মুদ্রা, অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত নানা কারণ থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারের কাজ হলো এসব সমস্যার সমাধান করা এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।


রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দল কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠন যদি কোনো সমস্যা নিয়ে রাজপথে নামে, লংমার্চ করে বা আন্দোলন করে—সেটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। এর জবাব হওয়া উচিত যুক্তি, নীতি ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে; কর্মসূচিটিকেই জ্বালানি সংকটের কারণ হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে নয়।


বরং বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় দলটির নেতা-কর্মীদের কথাবার্তায় আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ ক্ষমতাসীন দলের প্রতিটি বক্তব্য জনগণ সরকারের অবস্থান হিসেবেই বিবেচনা করতে পারে। বাস্তব সমস্যাকে অন্যের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলে সরকারেরই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মসূচিকে দায়ী না করে জ্বালানি সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং তার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয়।


রাষ্ট্র পরিচালনার মূল পরীক্ষা হলো—সমস্যা আছে কি না তা স্বীকার করা নয়, বরং সমস্যা সমাধানে সরকার কতটা সক্ষম ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে।