জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে যান এরশাদ
ঢাকা প্রতিনিধি:
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমানই জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর বলেছেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান গুলি করেন। এর আগে ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলেও মোজাফফর জানিয়েছেন।
তবে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বক্তব্য ও পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক পুনঃতদন্তে তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের মৃত্যু কীভাবে ঘটেছিল এবং কথিত ‘সিক্রেট পেপার’-এর বিষয়সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত প্রশ্ন খতিয়ে দেখছেন। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা আগেও বলেছেন, জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিলেন এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি।
এদিকে মোজাফফর হোসেনকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে পুলিশ ও সিআইডির তদন্তে মামলাটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর ২০০১ সালে সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। বর্তমানে নতুন করে তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
তবে মনে রাখতে হবে, মতিউর রহমানের গুলি করার এবং এরশাদের ২৮ মে চট্টগ্রাম সফরের তথ্যগুলো এই মুহূর্তে মোজাফফর হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্য ও প্রসিকিউটরের বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; এগুলোকে চূড়ান্ত আদালত-প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।