স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক, সাইবার বুলিং ও নতুন আইন নিয়ে আলোচনা
ঢাকা প্রতিনিধি | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে সাইবার অপরাধ, অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআইয়ের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স।
বৈঠকে আইআরআইয়ের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন এবং সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
জন ফ্লুহার্টি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা বর্তমানে সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি এবং কার্যকর আইনগত সুরক্ষা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন। তিনি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন বা গালিগালাজ এক নয়।” ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সমাজকে সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আইনটি পরিমার্জনের প্রক্রিয়ায় গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য হবে ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনোভাবেই যেন আইনটির অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক থাকবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করার ক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সংগঠিত অপপ্রচার নিয়ে দেশে নানা ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত সুরক্ষা এবং অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।