Columbus, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধান পদে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন করবে বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির শ্রীমঙ্গলে ২৬ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার-১ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: এলজিআরডি মন্ত্রী কুমিল্লার মুরাদনগরে ইউপি সদস্যকে রাতের আঁধারে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় থমথমে অবস্থা নানকের অক্ষত সম্পদ থেকে আয়, ভারতে হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক, সাইবার বুলিং ও নতুন আইন নিয়ে আলোচনা ৬ দফা থেকে ৭ দফায় রূপান্তরিত ১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ তাইওয়ানের কাছে নতুন অস্ত্র বিক্রি করলে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক বাতিলের হুমকি চীনের বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি, গঠনতন্ত্র মেনেই সিদ্ধান্ত: রিজভী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাপত্রে যা থাকছে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে ভয় দেখায় সরকার: শফিকুর রহমান গোগালিছড়ার বাঁধ ভেঙে কুলাউড়ায় আকস্মিক বন্যা
হোম রাজনীতি নানকের অক্ষত সম্পদ থেকে আয়, ভারতে হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর অভিযোগ

নানকের অক্ষত সম্পদ থেকে আয়, ভারতে হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:৩২ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 21
নানকের অক্ষত সম্পদ থেকে আয়, ভারতে হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর অভিযোগ

ঢাকা প্রতিনিধি | নিউইয়র্ক ভয়েস বাংলা


আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছরের বেশি সময় পরও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের দেশে থাকা বিপুল সম্পদ থেকে আয় অব্যাহত রয়েছে বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে পাওয়া আয়ের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে নানক দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন।


রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে নানকের ঘনিষ্ঠ সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, বরিশাল ও ঢাকায় থাকা তাঁর বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনা ও ব্যবসা থেকে প্রতি মাসে বিপুল অর্থ আয় হচ্ছে। সেই অর্থের একটি বড় অংশ অবৈধ হুন্ডি ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


শত কোটি টাকার সম্পদের দাবি

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা নানকের নামে ও পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদের মোট মূল্য শত কোটি টাকার বেশি হতে পারে। বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও স্থাপনা ছাড়াও ঢাকার উত্তরায় ছয়তলা এবং মোহাম্মদপুরে আটতলা ভবনের তথ্য তাঁর ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ ছিল।


এ ছাড়া বরিশালের রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটিরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা সম্পত্তি থেকে ভাড়া আদায়ের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


নথুল্লাবাদে নানকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ নিয়েও প্রতিবেদনে সম্পদের হিসাবের প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা নানক এবং তাঁর স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানু এর সঙ্গে ট্রাস্টি বোর্ডের দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন।


তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেখানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিতে ইউজিসি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নজরদারিতে রাখার কথা জানিয়েছিল। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বর্তমানে ঠিক কী পরিমাণ আয় হচ্ছে—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য আর্থিক তথ্য পাওয়া যায়নি।


হলফনামায় সম্পদ বৃদ্ধির হিসাব

নানকের সম্পদের পরিবর্তন নিয়েও আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রশ্ন উঠেছে।


২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট প্রায় ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছিলেন নানক। ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর ও স্ত্রীর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়। অর্থাৎ ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী ১৬ বছরে সম্পদ প্রায় ৩০ গুণ বেড়েছে।


তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদের বাইরেও নানক পরিবারের আরও সম্পদ রয়েছে। বরিশালের কিছু জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য হলফনামায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


কীভাবে ভারতে টাকা যাওয়ার অভিযোগ

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—দেশে থাকা সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে।


প্রতিবেদনে বরিশালের সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের একজন হোটেল ব্যবসার সঙ্গে এবং অন্যজন স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।


প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, বরিশালের বিভিন্ন ভবনের ভাড়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিছু আয় ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে ঢাকার সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ বেনাপোল সীমান্ত এলাকার একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নানকের এক নিকটাত্মীয় ঢাকার সম্পত্তি থেকে আসা অর্থ ভারতে পাঠানোর বিষয়টি দেখভাল করেন।


একজন আওয়ামী লীগ কর্মীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থ নানকের পশ্চিমবঙ্গের বাসস্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলোকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।


নানকের বিরুদ্ধে আগেই অর্থ পাচারের মামলা

নানকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নানক, তাঁর স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানু এবং মেয়ে এস আমরীন রাখির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে।


দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়, রাতুল টেলিকম লিমিটেডের মাধ্যমে ২৫৯ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার পাচারের ঘটনা ঘটেছে। মামলায় নানকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে স্ত্রী ও মেয়েকে অর্থ পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।


তবে এটি মনে রাখা জরুরি—মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে; আদালতের চূড়ান্ত রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখানে নেই।


৫৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালত নানক, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের নামে থাকা ৫৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন।


দুদকের আবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে মোট ৩২ কোটি ১৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এসব হিসাবে তখন প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ছিল বলে আদালতে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়।


এর আগে আদালত নানক, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের দেশত্যাগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বলে আদালতসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের দাবি

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠেছে—সরকার পতনের পর নানকের দেশে থাকা সম্পত্তি ও ব্যবসার আয় কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই অর্থের কোনো অংশ বিদেশে যাচ্ছে কি না।


বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠানোর অভিযোগ সত্য হলে, সেটি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, মানি লন্ডারিং ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারসংক্রান্ত আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত প্রয়োজন।


নানকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি


সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য জানতে তাঁর পরিচিত বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ফলে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠানোর সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে নানকের সরাসরি বক্তব্য এই মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে না।


সব মিলিয়ে, নানকের সম্পদ বৃদ্ধি ও অর্থ পাচার নিয়ে আগে থেকেই দুদকের মামলা ও আদালতের বিভিন্ন আদেশ রয়েছে। এর সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে দেশে থাকা সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠানোর অভিযোগ। তবে এই সর্বশেষ অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীন সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই বলে দেবে—অভিযোগের পেছনে বাস্তবে কতটা সত্যতা রয়েছে।