কিয়েভে ফের বড় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বরের হামলায় শহরটিতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, ক্লিনিক, ডরমিটরি, গুদাম ও একটি টেলিভিশন স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলাটি এমন সময় হলো, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি মস্কো ও কিয়েভ সফর করে রুশ ও ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ওই সফরের সময় কিয়েভে হামলায় সাময়িক বিরতি দেখা গেলেও দূতেরা চলে যাওয়ার পর আবারও বড় আকারের হামলা শুরু হয়।
কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি
কিয়েভ নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের হামলার পর শহরের একাধিক এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করে।
শহর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শেভচেনকিভস্কি জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি গুদামে আগুন লাগে। পোদিলস্কি জেলায় একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হোলোসিভস্কি এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এলাকাতেও আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।
হামলার পর শহরের কিছু সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।
হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে
কিয়েভের স্বাস্থ্য বিভাগ সকালে জানায়, হামলায় ১০ জন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে সময় দুজনের মৃত্যুর তথ্যও জানানো হয়েছিল। পরে দিনের অগ্রগতিতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। সর্বশেষ Reuters প্রতিবেদনে কিয়েভের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যেই হামলা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দূতদের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব উঠে এসেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়নি।
কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা জানিয়েছেন, মিত্রদের সহায়তায় দেশটি প্রায় ১,০০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্তর সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে, যদিও এর বড় অংশ ভবিষ্যতে সরবরাহ হওয়ার কথা।
রাশিয়ার দাবি
রাশিয়া বলেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক ও লজিস্টিক অবকাঠামো। তবে হামলার ফলে কিয়েভে বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কিয়েভের ওপর এই হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের আরও কয়েকটি অঞ্চলেও রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবরও এসেছে।
যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও উভয় পক্ষের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে শান্তি আলোচনা চললেও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।