কানাডার পাল্টা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক কার্যকর করেছে কানাডা। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এসব শুল্কে মার্কিন পণ্যের ওপর পণ্যভেদে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন পাল্টা শুল্কের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা মোট ২৭.৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের পণ্য রয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর
কানাডার অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন শুল্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। এসব শুল্কের হার সংশ্লিষ্ট মার্কিন শুল্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুল্কের আওতায় রয়েছে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি, কাগজ ও পাল্প, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য। কিছু ক্ষেত্রে আগের ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
কানাডা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইতোমধ্যে পথে থাকা পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন পাল্টা শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।
বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর নতুন পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনা গত আগস্টে ভেঙে পড়ে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সরকারের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। Ottawa একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
Reuters জানিয়েছে, কানাডার পাল্টা ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা বাণিজ্য বিরোধকে আরও এক ধাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কোন পণ্যে প্রভাব পড়তে পারে
নতুন শুল্কের আওতায় থাকা মার্কিন পণ্যের মধ্যে রয়েছে ইস্পাত, কৃষি ও খাদ্যপণ্য, আসবাবপত্র, পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য। পণ্যভেদে শুল্কের হার ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
কানাডা সরকারের প্রকাশিত তালিকায় শত শত মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের অর্থনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানানো এবং কানাডীয় শ্রমিক ও ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করা।
উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
পাল্টাপাল্টি শুল্কের ফলে দুই দেশের ব্যবসা ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার শিল্পখাতে দুই দেশের উৎপাদনব্যবস্থা গভীরভাবে পরস্পরনির্ভর হওয়ায় শুল্কের প্রভাব কেবল আমদানিকারক বা রপ্তানিকারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভোক্তা পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার বিরুদ্ধে আরও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি কানাডার বিমান নির্মাতা Bombardier-এর উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ শুধু পণ্যের শুল্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য শিল্পেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, কিংবা পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরও বাড়বে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।