নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি, থাকবে ড্রোন ও বডি ক্যামেরা
ঢাকা প্রতিনিধি ||
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ও অন্যান্য পরীক্ষা বিবেচনায় ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা ও তফসিল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। কমিশনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং একসঙ্গে দেশের সব ইউনিয়নে ভোট না নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে
সেপ্টেম্বরেই তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতি
ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যেই প্রথম ধাপের নির্বাচনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
একসঙ্গে সব ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ভোট করার পরিকল্পনার পেছনে প্রশাসনিক ও ব্যয়সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের প্যানেল চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায়
ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে থাকছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর সময়ে বার্ষিক, বৃত্তি ও অন্যান্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের তারিখ নির্ধারণে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন।
কারণ, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষা ও নির্বাচনের সময় যেন পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে অনুযায়ী ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের কথা জানিয়েছে ইসি
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি, বাড়বে বডি ওর্ন ক্যামেরা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো কেন্দ্রে পরিস্থিতির অবনতি হলে ঘটনাস্থলের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।
নজরদারিতে ব্যবহার হবে ড্রোন
নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনাও জানিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ড্রোনের মাধ্যমে কোথায় কী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দ্রুত করা সম্ভব হবে।
এর পাশাপাশি নির্বাচনকে ঘিরে ভুল তথ্য ও মিসইনফরমেশন মোকাবিলায়ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
আচরণবিধি চূড়ান্ত
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধিও চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির ওয়েবসাইটে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের তথ্য রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচন এগিয়ে যাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান—যেমন পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্তরের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে প্রতিটি ধাপের সুনির্দিষ্ট ভোটের তারিখ ও তফসিল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।