অনলাইন, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
সরকারি চাকরির নিয়োগে বাড়ছে ভাইভার নম্বর, কমছে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর মহাকাশ ও পৃথিবীবিজ্ঞানে নতুন গবেষণার গতি আজ এজবাস্টনে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের শেষ টেস্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে সংকটমুক্তির লক্ষ্য সরকারের মার্কিন শেয়ারবাজারে পতন, তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে কানাডার পাল্টা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ল নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি, থাকবে ড্রোন ও বডি ক্যামেরা হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে শেখ সেলিম সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে ৬ মাসের শুল্ক-কর ছাড় কিয়েভে ফের বড় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫ ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণে পুনঃসংশোধিত বিজ্ঞপ্তি কুমিল্লায় পানিতে ডুবে জমজ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় ফসলি জমিতে পুঁতে রাখা নারীর মরদেহ উদ্ধার ২৫ বছর ধরে দখল, কুমিল্লা সড়ক বিভাগের তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বাঁধনের ওপর হামলা ঘিরে সংসদে কঠোর বার্তা, ‘জুলাই যোদ্ধার ওপর আঘাত মানে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’
হোম আমেরিকা মার্কিন শেয়ারবাজারে পতন, তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে

মার্কিন শেয়ারবাজারে পতন, তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 1
মার্কিন শেয়ারবাজারে পতন, তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ||


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়া এবং এর প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।


মঙ্গলবার তিন দিনের ছুটির পর মার্কিন বাজার খুললে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ে। দিন শেষে S&P 500 সূচক ০.৬ শতাংশ কমে ৭,৬৭৩.৫২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৬২৮.১৮ পয়েন্ট বা ১.২ শতাংশ কমে ৫২,৭৮৬.০৭ পয়েন্টে নেমে যায়। নাসডাক কম্পোজিটও ০.৩ শতাংশ কমে ২৬,৪২১.৪১ পয়েন্টে অবস্থান করে।


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাড়ছে তেলের চাপ


বাজারে চাপ তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেলের দাম বৃদ্ধি। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরের পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।


মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯.৫০ ডলারে উঠে যায়। পরে তা ৯৭.৯২ ডলারে স্থির হয়, যা জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা WTI অপরিশোধিত তেলের দামও ১.৫৫ ডলার বেড়ে ৯৩.০৩ ডলারে দাঁড়ায়, যা জুনের পর সর্বোচ্চ।


সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ


তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবহন, উৎপাদন ও অন্যান্য খাতের খরচও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার কথা। এসব তথ্য আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাজারে এখন সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও আগের তুলনায় বেশি বিবেচিত হচ্ছে।


তেলের বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা


রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। যদিও বিকল্প রুট এবং অন্যান্য উৎপাদক দেশের বাড়তি উৎপাদন বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা সামাল দিচ্ছে, তবু ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ স্পষ্ট হচ্ছে।


বেশ কয়েকটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও তেলের ভবিষ্যৎ দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর পর্যন্ত তেলের বাজারে সরবরাহ সংকটের প্রভাব থাকতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।


বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ফেডের সিদ্ধান্তে


তেলের উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই তিনটি বিষয় এখন মার্কিন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের কিছু বড় কোম্পানির শেয়ারে দরপতনও মঙ্গলবারের বাজারকে চাপের মধ্যে রেখেছে।


তবে বছরের শুরু থেকে প্রধান মার্কিন সূচকগুলো এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী। মঙ্গলবারের পতন মূলত নতুন করে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।