হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে শেখ সেলিম
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কে সামলাবেন—এ নিয়ে চলমান জল্পনায় একটি স্পষ্ট অবস্থান সামনে এসেছে। তবে এটি আনুষ্ঠানিক দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন সভাপতি নির্বাচন বা ঘোষণার তথ্য নয়; বরং শেখ হাসিনার নিজের দেওয়া বক্তব্যে অনুপস্থিত অবস্থায় দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।
শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণ
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাই শেখ সেলিম দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর বোন শেখ রেহানার সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। ফলে তাঁর পরিবর্তে শেখ সেলিমকেই দলের নেতৃত্বে রাখার কথা জানান তিনি।
নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা চলে আসছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব কে পরিচালনা করবেন—তা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যে সেই প্রশ্নের একটি উত্তর পাওয়া গেলেও, বাস্তবে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে এবং শেখ সেলিম কী ধরনের ভূমিকা পালন করবেন, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
দলীয় অভ্যন্তরে প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষের খবরও এসেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ৭ সেপ্টেম্বর রাতে এক বৈঠকে শেখ সেলিমকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে এসব প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত নয়। ফলে আওয়ামী লীগের সামগ্রিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের প্রয়োজন রয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য
শেখ হাসিনার বক্তব্যটি এমন সময়ে এলো, যখন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুপস্থিত অবস্থায় দলের সভাপতির দায়িত্ব শেখ সেলিম পালন করবেন।
তবে শেখ সেলিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে—এমন কোনো দলীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বা পৃথক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টিকে আপাতত শেখ হাসিনার দেওয়া নেতৃত্ব-সংক্রান্ত বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ছাড়াও দেশে ফেরার পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। এসব বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের কিছু অংশ তাঁর নিজস্ব দাবি ও রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে প্রতিবেদনে এসেছে; সেগুলো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শেখ সেলিমের সম্ভাব্য নেতৃত্ব দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক developments-এর ওপর।