ফেসবুকে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকারের দাবি, রাজিব চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় রাজিব চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, তাঁর ভূমিকা এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাতে রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, ফেসবুকে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়ার পর তাঁকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে রাজিব একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ১ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১৪ এলাকায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন। সকাল থেকে কয়েক শ শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকার যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং লাঠিচার্জ ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিরপুর-১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের সময় সহিংসতা, সরকারি সম্পদে অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ বা প্রাথমিক স্বীকারোক্তির দাবি আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। রাজিব চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং আন্দোলনের আড়ালে সংঘটিত কোনো অপরাধ—এই দুই বিষয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার পাশাপাশি সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।