প্রাথমিকের ৪র্থ-৫ম শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা, ২০২৭ সালে আসছে ক্রীড়া পাঠ্যবই
ঢাকা প্রতিনিধি ||
প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২০২৭ সাল থেকে ক্রীড়া বিষয়ক পাঠ্যবই চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
যশোরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মশালার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৭ সালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ক্রীড়া পাঠ্যবই চালু করা হবে এবং ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়াকে পাঠ্যক্রমের অংশ করার উদ্যোগ
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খেলাধুলাকে শিশুদের শিক্ষাজীবনের আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষায় ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো খেলাকে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে।
মাঠ ও প্রশিক্ষকের ব্যবস্থার পরিকল্পনা
শুধু পাঠ্যবই চালু করেই পরিকল্পনাটি সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ এবং প্রশিক্ষক ভাগাভাগি করে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন খেলার মাঠ তৈরির বিষয়েও কাজ চলছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন পরিকল্পনায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিশুদের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি খসড়া নির্দেশনাতেও চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা
সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ক্রীড়া পাঠ্যবই চালুর পর ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন প্রাথমিক পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব বাড়বে। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।