অনলাইন, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন 728 × 90
সর্বশেষ খবর
AIUB-তে Junior Executive নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরির নতুন সুযোগ, মেডিকেল-ব্যাংকিং-প্রযুক্তি-আইনসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োগ বিশ্বে চিকিৎসক সংকটের আশঙ্কা—অবসরের মুখে প্রতি চারজনের একজন চিকিৎসক, সতর্ক করল WHO AI নিয়ে বড় প্রযুক্তি-আলোচনা: ভবিষ্যৎ AI নিজেই উন্নত হতে পারবে? NASA-এর Crew-13 প্রস্তুতিতে নতুন অগ্রগতি, কোয়ারেন্টিনে চার নভোচারী মিলি ববি ব্রাউন ও জেক বংজিওভির পরিবারে নতুন সদস্য, দ্বিতীয় সন্তান দত্তক ১০ হাজার স্টেপ নয়—হাঁটার গতিও গুরুত্বপূর্ণ, বলছে নতুন গবেষণা পাকিস্তান স্কলারশিপ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ঢাবিতে পরীক্ষায় AI ব্যবহার করে নকল, দুই শিক্ষার্থীর শাস্তি এশিয়ান গেমসে হকির শুরুতেই বাংলাদেশের ৫–০ গোলের হার, সামনে জাপান ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে LNG সংকটে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ রাশিয়ায় শুরু তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন, দখলকৃত ইউক্রেনীয় এলাকাতেও ভোট হরমুজ প্রণালিতে টোগো-নিবন্ধিত তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি ইরানের ফেডের সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন চাপ
হোম রাজনীতি সরকারের বিরুদ্ধে ‘নতুন কর্তৃত্ববাদ’ অভিযোগ নাহিদ ইসলামের

সরকারের বিরুদ্ধে ‘নতুন কর্তৃত্ববাদ’ অভিযোগ নাহিদ ইসলামের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 4
সরকারের বিরুদ্ধে ‘নতুন কর্তৃত্ববাদ’ অভিযোগ নাহিদ ইসলামের

ঢাকা প্রতিনিধি ||


প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ‘নতুন কর্তৃত্ববাদী’ প্রবণতার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার এমন কিছু আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিচ্ছে, যা নাগরিক অধিকার সীমিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।


শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। মানববন্ধনের আয়োজন করা হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ভিন্নমত দমন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিয়ে দলের উদ্বেগ তুলে ধরতে। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলো।


‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিরাপদ নয়’—নাহিদ


নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিরাপদ নয়। তিনি তারেক রহমানকে ‘নতুন কর্তৃত্ববাদী’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার অভিযোগ করেন।


এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার বিরোধী মত ও ভিন্নমত দমনের দিকে যাচ্ছে এবং এমন আইন প্রণয়ন করছে, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি বলেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে যে অবস্থান নিয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তার সঙ্গে বর্তমান কর্মকাণ্ডের অসঙ্গতি রয়েছে—এমনটাই তাঁর দাবি।


তবে এসব বক্তব্য নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অভিযোগ। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই অনুষ্ঠানে বা একই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


মানবাধিকার ও আইন নিয়ে আপত্তি


মানববন্ধনে নাহিদ ইসলাম গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুমের অভিযোগের তদন্ত এমন কোনো সংস্থার হাতে থাকা উচিত নয়, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী পরে ভুল প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান থাকলে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করতে ভয় পেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


সরকারি আইনভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইনের মাধ্যমে রহিত হয়েছে। অর্থাৎ মানবাধিকার কমিশনের আইনগত কাঠামোয় সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন হয়েছে—যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।


অ্যান্টি-টেররিজম আইন নিয়েও প্রশ্ন


নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা, মিম বা আপত্তিকর বক্তব্যের মতো বিষয়েও অ্যান্টি-টেররিজম আইনের ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এতে মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


তিনি এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা বা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বলেন, আপত্তিকর বক্তব্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলার আইনগত ভিত্তি ও আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচনার বিষয়।


গুমের অভিযোগ ও তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ


মানববন্ধনে নাহিদ ইসলাম বাগেরহাটের জেলে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করতে গেলে জটিলতা তৈরি হয় এবং পরে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি।


এই অভিযোগটি নাহিদ ইসলামের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা বা দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।


দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার নিয়েও অভিযোগ


নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিরোধী দল ও এনসিপির নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি সরকারকে বিএনপির ২০০১–২০০৬ মেয়াদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানান।


পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন না হওয়া নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, পুলিশকে বিরোধী দল দমনের কাজে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগও তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ এবং এগুলোর বিষয়ে সরকারের বিস্তারিত জবাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।


বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে আগের বিতর্ক


সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা নতুন নয়। আগস্টেও তিনি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন যে সরকার পুরোনো কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর দিকে ফিরে যাচ্ছে। একই সময় তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।


সেপ্টেম্বরের শুরুতেও সংসদে বিরোধী দলের প্রশ্ন করার সুযোগ নিয়ে নাহিদ ইসলাম আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের প্রশ্ন থাকলে সংসদীয় জবাবদিহি দুর্বল হয়।


১৮ সেপ্টেম্বরের মানববন্ধনে দেওয়া বক্তব্য সেই ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমালোচনারই নতুন পর্ব হিসেবে এসেছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে নাহিদ ইসলামের সর্বশেষ অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।