যশোরে পথসভায় বিএনপির উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান, গণভোটের গণরায় অস্বীকারের মাশুল আপনাদের দিতে হবে
সরকারের উদ্দেশ্যে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা গণভোটের গণরায় অস্বীকার করেছেন। এর মাশুল আপনাদের দিতে হবে। আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। জনগণ রাজপথে নামলে দাবি আদায় করেই ছাড়বে।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের যশোরের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
যশোর জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে পথসভায় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে আজকের সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। সরকারকে আমরা সেইটুকু সময় দিতে চাই। আমরা সংসদে বসেই গণ ভোটের গণরায় ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্নসহ ৭ দফা দাবির সমাধান করতে চাই। কিন্তু তা নাহলে আবারও দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে গণ বিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না। একই সঙ্গে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সাত দফা দাবি আদায়ে সরকারকে তিনি বলেন, এক দফার ওজন কেউ সহ্য করতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না।’ দাবি বাস্তবায়নে অবিলম্বে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখনই মেনে নিন, ঘোষণা দিন। তারপরও আপনাদের বিশ্বাস করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বক্তব্যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি নিয়েও সতর্ক করা হয়। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রাস্তায় যারা হাঁটবে, তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।’ জনগণের ওপর জুলুম ও অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
তিনি আরো বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলনের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আলাদা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্য নেই। আমাদের নিজস্ব কোনো দাবি নেই।জনগণের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা, অনিয়ম বন্ধ করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
পথ সভায় বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান, মুফতি শরাফত হোসেন।
পথসভায় আরও বক্তৃতা করেন যশোর যশোর-১ আসনের এমপি মাওলানা মোক্তার আলী, যশোর-২ আসনের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের এমপি অ্যাড. এনামুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ আবু জাফর, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ প্রমুখ।
এরআগে সমাবেশ শুরু হয় বেলা ২ টায়। তিনটা বাজতেই কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। একের পর পথসভায় যশোর-১, যশোর-২, যশোর-৪, যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। তারা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। যশোরের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়ীবহর শহরের মণিহার, বারান্দীপাড়া, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়, নতুন উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি, চুড়ামনকাটি, সাতমাইল হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় রাস্তার দুই পামে শত শত নারী পুরুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান।